স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর : রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে রিতিমতো অপমানিত হলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সাধারণ সভায় তিনি বক্তৃতা শুরু করতেই একের পর এক আধিকারিক হল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে থাকেন। প্রায় ফাঁকা ঘরেই বক্তব্য রাখেন নেতানিয়াহু। দাবি করেন, ইজরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চলছে। কিন্তু নেতানিয়াহু যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে একথা বলছেন, তখন দর্শকাসন থেকে দুয়োধ্বনি ওঠে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ অপরাধী তকমা দিয়েছিলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। বলেছিলেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত নিউ ইয়র্কে পা রাখলেই। সেই মামদানিকে পালটা দিয়েই রাষ্ট্রসংঘে নিজের ভাষণ শুরু করেন নেতানিয়াহু। বলেন, “আপনি আমাকে আটকাতে চেয়েছিলেন। চুপ করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। সত্যকে কেউ চুপ করাতে পারে না। সত্যিটা খুব সহজ, ইজরায়েল মোটেই গণহত্যা করেনি। বরং ইজরায়েল সেটা আটকেছে। যারা এইভাবে ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায় তাদের লজ্জা হওয়া উচিত।”
মঞ্চ থেকে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যখন ঝাঁজালো বক্তৃতা দিচ্ছেন, তখনই ফাঁকা হতে শুরু করে দর্শকাসন। একে একে বহু দেশের প্রতিনিধি এবং আধিকারিকরা বেরিয়ে যান। তাতেই আরও রেগে ওঠেন নেতানিয়াহু। বলে বসেন, যারা হল ছেড়ে বেরচ্ছেন তাঁরা আসলে নৈতিক কাপুরুষ। আরও বলেন, “যেসমস্ত কাপুরুষরা এখনও ঘর ছেড়ে বেরননি দয়া করে তাঁরাও সকলে বেরিয়ে যান।” যাঁরা বসেছিলেন, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে দুয়ো দিতে থাকেন। তার মধ্যে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে থাকেন ইজরায়েলের প্রতিনিধি দল। সবমিলিয়ে দেখা দেয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা।
মাসদেড়েক পরেই ইজরায়েলে নির্বাচন রয়েছে। টানা যুদ্ধের জেরে দেশের অন্দরে নেতানিয়াহুর কুর্সি বেশ টলমল বলেই মনে করছেন অনেকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে নেতানিয়াহুর ভাষণ অনেকটা নির্বাচনী জনসভার মতো শুনিয়েছে। ইজরায়েলে একাধিক প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার হয়েছে এই ভাষণ। যদিও অপিনিয়ন পোলে যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছেন নেতানিয়াহু।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান