নয়াদিল্লি, ২১ সেপ্টেম্বর (হি.স.): ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর থেকেই এই চুক্তি কার্যকর হতে চলেছে। সোমবার নতুন দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এমনটাই জানিয়েছেন।তিনি জানান, এই চুক্তির আওতায় নিউজিল্যান্ডে ভারতের ১০০ শতাংশ রফতানিতে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা মিলবে। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করতে এবং আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
ভারতীয় রফতানিতে বিপুল সুযোগ:
এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতের টেক্সটাইল ও পোশাক, চামড়া ও জুতো শিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ওষুধ (ফার্মাসিউটিক্যালস), কৃষি এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী রফতানিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড ভারতের বাজারে কাঠ, উল, ভেড়ার মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত না করা কাঁচা চামড়ার মতো পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবে।
বিনিয়োগ ও ভিসা সহজীকরণ:
চুক্তির মাধ্যমে ভারতে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আসার পথ প্রশস্ত হবে। পাশাপাশি দুই দেশের পেশাদার ও শিক্ষার্থীদের জন্য যাতায়াত ও ভিসা সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা আরও সহজ করা হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আয়ুষ ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও যৌথ সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশাপ্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী। পীযূষ এদিন সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, "এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং ২০৩০ সালের রূপরেখা আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করে প্রায় ৩৫,০০০ কোটি রুপিতে উন্নীত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য। ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে এই লক্ষ্যটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপান্তরিত হবে। আমি আনন্দিত যে আমরা ২০ অক্টোবর তারিখটি বেছে নিয়েছি। ভারতে এই দিনটি অন্যতম প্রধান উৎসব—দুর্গাপূজা বা বিজয়া দশমী—হিসেবে উদযাপিত হয়। বিজয়া দশমী মূলত অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির জয় উদযাপনের দিন; এটি মন্দের ওপর ভালোর জয়। তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম এবং আমার মনে কোনও সন্দেহ নেই যে, এই দিনটি চুক্তিটির বাস্তবায়নে এক বিশেষ গতি সঞ্চার করবে।"
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান