Friday, September 25, 2026
বাড়ি খেলা ‘প্রতারণার কারণেই হাতছাড়া সোনা’, এশিয়াডের দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারছেন না ‘ফাইটার’ সূচিকা

‘প্রতারণার কারণেই হাতছাড়া সোনা’, এশিয়াডের দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারছেন না ‘ফাইটার’ সূচিকা

‘প্রতারণার কারণেই হাতছাড়া সোনা’, এশিয়াডের দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারছেন না ‘ফাইটার’ সূচিকা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর :  মাত্র ৭০০ গ্রাম ওজন বেশি হওয়ার মাশুল দিয়ে এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে সূচিকা তারিয়ালের। ভারতের প্রথম মিক্সড মার্শাল আর্টস ফাইটার হিসাবে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন। অথচ ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত নিয়মের জাঁতাকলে আটকে গিয়েছিলেন। হতাশাজনক পরিস্থিতি নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন ৩৬ বছরের অ্যাথলিট। এশিয়াডে ভারতের সর্বপ্রথম এমএমএ পদকজয়ী তারকা জানালেন, তাঁর বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’ করে নিশ্চিত স্বর্ণপদক থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন সূচিকা। মহিলাদের ট্র্যাডিশনাল ৬০ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরের হুই হুন তেও-এর মুখোমুখি হয়েছিলেন সূচিকা। শুরু থেকেই সেয়ানে সেয়ানে লড়াই চলছিল। প্রথম রাউন্ডে নিখুঁত বক্সিং পাঞ্চে লিড নেন তেও। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে নিজের ‘শক্তি’ জুডোতে ম্যাচে ফেরেন সূচিকা। গ্র্যাপলিং ও টেকডাউনে দুরন্ত ছিলেন ভারতীয় তারকা। নির্ধারিত সময় শেষে লড়াই গড়ায় এক মিনিটের ওভারটাইমে। সেখানেও কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়েননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রেফারির হাত ওঠে তেও-এর দিকে। সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি সূচিকা। এতটাই রেগে গিয়েছিলেন, পোডিয়ামে দাঁড়াতেও অস্বীকার করেন।


এর পরেই রেফারির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ভারতীয় শিবির। নির্ধারিত ১,০০০ মার্কিন ডলার ফি জমা দিয়ে রিভিউয়ের আবেদন করে ভারতের এমএমএ ফেডারেশন। ৩ বিচারকের পরিবর্তে ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় ১০ জনের বিশেষ প্যানেলকে। দীর্ঘ পর্যালোচনার পরে বদলে যায় প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। বিশেষ প্যানেল জানায়, নির্ধারিত সময়ের লড়াইটি আসলে ড্র হয়েছিল। বাতিল করা হয় আগের ফলাফল। ম্যাচকে ঘোষণা করা হয় অমীমাংসিত। এখানেই শেষ হয়নি নাটক। ড্র হলে কীভাবে বিজয়ী নির্ধারিত হবে, তারও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। প্রথমে দেখা হয় ওয়ার্নিং। ঘটনাচক্রে সেখানেও দুই প্রতিযোগী সমান। ফলে শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায় ওজন। আর সেখানেই পিছিয়ে পড়েন সূচিকা। সকালের অফিসিয়াল ওজনে দেখা যায়, তেও-র ওজন সুচিকার তুলনায় ৭০০ গ্রাম কম। ফলে ‘ব্রেক টাই বাই ওয়েট’ নিয়মে ফাইনালে যাওয়ার ছাড়পত্র পান সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগী।


সূচিকার কথায়, “আমিই এই লড়াই জিতছিলাম। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে ড্র ঘোষণা করা হল। আরও এক রাউন্ড না দিয়ে এই ওজনের নিয়ম প্রয়োগ করা হল। এতে আমার প্রাপ্য সোনার পদকটাই হাতছাড়া।” আরও এক রাউন্ডের সুযোগ না পাওয়াটাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে তাঁকে। সূচিকা বলেন, “ওজনের নিয়মটা খুবই খারাপ লেগেছে। আরও একটা রাউন্ড খেলতে দিতে পারত। সেই রাউন্ডে হেরে গেলেও মেনে নিতাম। কিন্তু যা হল, সেটা মেনে নেওয়া কঠিন। আমার সঙ্গে কার্যত প্রতারণা করা হয়েছে। যেভাবে খেলছিলাম, তাতে মনে হচ্ছিল সোনা জিতব। জানি কতটা পরিশ্রম করে এখানে পৌঁছেছি। এভাবে হারতে পারি না। এমনকী টাইব্রেকারের এক মিনিটের রাউন্ডেও আমি আধিপত্য দেখাচ্ছিলাম। বিপক্ষ পিছিয়ে যাচ্ছিল। আর আমি আক্রমণ করছিলাম।”


ম্যাচের দিন এমএমএ স্পোর্টস ফেডারেশনের সভাপতি নিখিল কুন্দে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, “ভারতীয় শিবিরের চ্যালেঞ্জের পরে ম্যাচ অমীমাংসিত ঘোষণা করা হয়েছিল। এর পরে নিয়ম অনুযায়ী সকালের ওজনের ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারিত হয়। সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগীর ওজন সূচিকার চেয়ে প্রায় ৭০০ গ্রাম কম থাকায় ফাইনালে চলে যান। সূচিকাকে ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।” তবে এই সিদ্ধান্তকে ‘চিটিং’ বলতে নারাজ সূচিকা। তাঁর একটাই প্রশ্ন, ড্র হলে আরও একটি রাউন্ড নয় কেন? “আমি বলছি না যে চিটিং হয়েছে। কিন্তু ম্যাচ যদি ড্র-ই হয়, তা হলে আমাকেও তো জিতিয়ে দেওয়া যেত। আমার কী ভুল ছিল যে ওকে জয়ী ঘোষণা করা হল? আমি শুধু এটুকুই জানতে চাই। তবে ব্রোঞ্জ জিতে খুবই খুশি। এই পদক আমার কাছে জীবনের থেকেও বেশি দামি। এর জন্য অসম্ভব পরিশ্রম করেছি” বলেন তিনি।


Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha