সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি, পাল্লা দিয়ে মৃত্যু ৪ জনের

স্যন্দন প্রতিনিধি। আগরতলা। ১৭ মে : সোমবার করোনার বুলেটিন প্রকাশে সংক্রমণের গতি ঊর্ধ্বমুখী'ই বলা যায়। পাল্লা দিয়ে রয়েছেন মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে ৩৩৫ জন। নমুনা পরীক্ষা অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটাই কম। এদিন নমুনা পরীক্ষা হয় ৪৬৩৭ জনের। পজিটিভিটি হার ৭.২২ শতাংশ। মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। সুস্থতার হার ধারাবাহিকভাবে কমে দাঁড়ায় ৮৭.৬৭ শতাংশ।

 ২৪ ঘন্টায়  সুস্থ হয়েছে ২৬৯ জন। সংক্রমণ পশ্চিম জেলায় ১৯০ জন, গোমতী জেলায় ১৬ জন, খোয়াই জেলা ৭ জন, ধলাই জেলা ১৭ জন, সিপাহীজলা জেলায় ২৮ জন, উত্তর জেলায় ১৭ জন, ঊনকোটি জেলায় ১০ জন এবং দক্ষিণ জেলায় ৫০ জন। সংক্রমণ বিস্তারের দিকে পশ্চিম জেলার পর দক্ষিণ জেলা রয়েছে। দক্ষিণ জেলায় গত কয়েকদিন যাবত ধারাবাহিকভাবে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। রবিবারও পশ্চিম জেলার পর দ্বিতীয় স্থানে ছিল সংক্রমণ দক্ষিণ জেলা। রবিবার দক্ষিণ জেলায় সংক্রমনের সংখ্যা ছিল ১০৩ জন। যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ দক্ষিণ জেলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রামীণ এলাকা। গ্রামীণ এলাকায় সংক্রমণ ঢুকে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ মহলের। রবিবার সকাল থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত বটতলা মহাশ্মশানে করোনা মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তিনটি, দুপুর দুইটার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত আরো তিনটি করোনা মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। এবং সন্ধ্যার পর আরো দুটি করোনা মৃতদেহ বটতলা মহাশ্মশানের আনা হয়েছে বলে সূত্র খবর। তাদের বাড়ি অধিকাংশই পশ্চিম জেলায়।

৬ জনের বাড়ি পশ্চিম জেলার বড়দোয়ালি,  রামনগর ৪ নম্বর, দু্র্জয়নগর, রানির বাজার, বনমালীপুর এবং খয়েরপুর এলাকায়। এবং ঊনকোটি জেলার দুইজনের মৃতদেহ আনা হয় বটতলা মহাশ্মশানে। একজন ফটিকরায় এবং অপরজন পেচারথলের বাসিন্দা। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনটি মৃতদেহ আনা হয় বটতলা মহাশ্মশানে। এর মধ্যে দুটি জিবি কোভিড সেন্টারের এবং একটি আই এল এস হাসপাতালের। তাদের বাড়ি পশ্চিম জেলার বণিক চৌমুহনি, রাজধানীর রবীন্দ্রনগর এবং শিবনগর এলাকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার সোমবার থেকে লাগু করা হয় করোনা কারফিউ। এদিন শহরের ছিল পুলিশের টহলদারি। অযথা রাস্তায় যারা বের হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সম্পূর্ণটা ছিল লকডাউনের চিত্র। স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পরিলক্ষিত হয় করোনা কারফিউ'তে।