শুটিংয়ের আগে ছয় মাস সামরিক প্রশিক্ষণ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ১২ আগস্ট :  প্রেমের ছবি নয়। ‘শেরশাহ’ ছবিতে রিয়েল লাইফ সুপারহিরোর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। পর্দায় তাঁর আর কিয়ারার রসায়ন দেখার অপেক্ষায় সিনেমাপ্রেমীরা। প্রথমবার পর্দায় আসতে চলেছে এই নতুন জুটি। সিদ্ধার্থ নিজেও উৎকণ্ঠায় যে কিয়ারার সঙ্গে তাঁর এই জুটি সবাই পছন্দ করবেন কি না।

প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধির সঙ্গে এক ভার্চ্যুয়াল সাক্ষাৎকারে কিয়ারার প্রসঙ্গ উঠতেই সিদ্ধার্থ বলেন, ‘“শেরশাহ”র ট্রেলার দেখে আমাদের জুটি অনেকের ভালো লেগেছে। ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছি আমরা। তবে সিনেমাটা মুক্তির পর আসল প্রতিক্রিয়া পাব। দেখা যাক, সবাই আমাদের জুটি পছন্দ করেন কি না। তবে “শেরশাহ” কখনোই রোমান্টিক ছবি নয়। তাই এই ছবিতে রোমান্সের ভাগ খুব কমই আছে।’ বিষ্ণু বর্ধন পরিচালিত ‘শেরশাহ’ ছবিতে ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার প্রেমিকা ডিম্পল চিমার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি। কিয়ারার প্রসঙ্গে সিদ্ধার্থ আরও বলেন, ‘বিক্রম বাত্রার জীবনে ডিম্পল চিমার ভূমিকা খুবই বিশেষ।শুধু ডিম্পলের ওপর দুই ঘণ্টার ছবি করা যায়। তাঁদের প্রেম খুবই মিষ্টি এবং নিষ্পাপ। বিক্রম এবং ডিম্পলের মধ্যে ওল্ড স্কুল রোমান্স ছিল।’ সিদ্ধার্থ মনে করেন কিয়ারা ডিম্পল চিমার চরিত্রের সঙ্গে পুরোপুরি ন্যায় করেছেন।

 তিনি বলেন, ‘এই ছবির সঙ্গে কিয়ারা অনেক দিন আগে থেকেই যুক্ত। “লাস্ট স্টোরিজ”–এর স্ক্রিনিংয়ের সময় ওকে এই ছবির প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিয়ারা তার অভিনীত চরিত্রের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে। অত্যন্ত পরিশ্রম করেছে ও। কিয়ারা নিজে পাঞ্জাবি নয়। তাই ডিম্পল চিমার চরিত্রের জন্য ও পাঞ্জাবি উচ্চারণ আলাদা করে শিখেছে।’ বৃহস্পতিবার ওটিটিতে মুক্তি পাচ্ছে ‘শেরশাহ’। সিদ্ধার্থ মালহোত্রা বলেছেন, ‘আমরা সবাই ছবিটি ঘিরে দারুণ উৎসাহিত। এই ছবির সফর খুবই লম্বা। প্রায় পাঁচ বছর আগে আমি এই ছবির জন্য বিশাল বাত্রার (বিক্রম বাত্রার যমজ ভাই) সঙ্গে দেখা করেছিলাম। শুরুতে অন্য চিত্রনাট্য ছিল। ধর্মা প্রোডাকশনের কাছে ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে যাই। এরপর ছবিটা নির্মাণ করতে আড়াই বছর সময় লেগে গেল।’ এই প্রথম কোনো বাস্তবধর্মী চরিত্রে অভিনয় করলেন সিদ্ধার্থ। আর তাই ‘শেরশাহ’কে ঘিরে তাঁর উচ্ছ্বাস অন্য রকম। এই বলিউড সুপারস্টার বলেন, ‘আমি প্রথমবার এমন এক নায়কের চরিত্রে অভিনয় করলাম, যিনি দেশের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। তাই এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলে অনেক দায়িত্ব আর চাপ বেড়ে যায়। বিক্রম বাত্রার পরিবারের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে আমি রীতিমতো ভয়ে আছি।’

পর্দায় বিক্রম বাত্রা হয়ে ওঠার জন্য নানাভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল সিদ্ধার্থকে। এই প্রস্তুতি বিষয়ে বলেন, ‘বিক্রম বাত্রার বাবা, মা, ভাই সবার সঙ্গে আমি সময় কাটিয়েছি। ওনার বন্ধু, সহকর্মী সবার সঙ্গে দেখা করেছি। আসলে আমি বিক্রম বাত্রার শারীরিক ভাষা, ব্যক্তিত্ব, আদবকায়দা খুঁটিনাটি সবকিছু জানতে চেয়েছি। ওনার সবকিছু রপ্ত করার চেষ্টা করেছি। এই ছবির জন্য আমাকে আর্মি ট্রেনিং নিতে হয়েছিল। মুম্বাই এবং কারগিল মিলিয়ে ছয় মাসের মতো ট্রেনিং নিয়েছিলাম। কারগিলে ১২-১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় আমরা শুটিং করেছি। আর এই উচ্চতায় উঠে মনে মনে ভেবেছিলাম যে কী ভেবে বিক্রম এই পাহাড়ে উঠেছিলেন। আর তখন তাঁর সারা শরীর রক্তে ভিজে গিয়েছিল।’