রুশ এস-৪০০ নিয়ে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞার পথে যুক্তরাষ্ট্র

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ১১ ডিসেম্বর: রাশিয়া থেকে গত বছর এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনায় তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র।দুই মার্কিন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আরও পাঁচজন বৃহস্পতিবার একথা জানিয়েছেন। শুক্রবারই নিষেধাজ্ঞার এই ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। তুরস্কের প্রেসিডেন্সি অব ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এর প্রধান ইসমাইল দেমিরের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।করোনাভাইরাসে ধুঁকতে থাকা তুরস্কের অর্থনীতি মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে।নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “নিষেধাজ্ঞা কোনও কাজে আসবে না। কিন্তু এতে বিপরীত ফল হবে; সম্পর্কের ক্ষতি হবে।”

“তুরস্ক কূটনীতি এবং আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যা সমাধানের পক্ষপাতি। আমরা একতরফা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ মেনে নেব না।”তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একারণে উপদেষ্টাদের পরামর্শ কানে না নিয়ে ট্রাম্প বরাবরই তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করে এসেছেন।তবে তুরস্ক সরকার গতবছর জুলাইয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের চালান নেওয়া শুরু করার পর ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীনভাবে আঙ্কারার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেন। এতে ট্রাম্প কোনও পদক্ষেপ না নিলেও তুরস্ক নিষেধাজ্ঞা কবলিত হওয়ার পট প্রস্তুত হয়েছে।রাশিয়া গতবছর তুরস্কের কাছে স্থল থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির পর তুরস্ক সেগুলো পরীক্ষাও করে দেখেছে। তুরস্ক বলছে, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কারও জন্য হুমকি নয়। কেবল শত্রু মোকাবেলায়ই এগুলো ব্যবহার করা হবে।কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে হুমকি হিসাবেই দেখছে এবং এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র গতবছরই তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান বিক্রি বন্ধ করা এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছিল।