ভোট জালিয়াতির’ অভিযোগ নিয়ে ট্রাম্প সমর্থকদের সমাবেশ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ১৫ নভেম্বর: রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে বলে প্রমাণ ছাড়াই যেসব অভিযোগ করে যাচ্ছেন, সেগুলোর সমর্থনে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির কেন্দ্রস্থলে সমাবেশ করেছে তার লাখো সমর্থক। শনিবার এ সমাবেশের পাশ দিয়ে ট্রাম্পের গাড়িবহর যাওয়ার সময় তার সমর্থকরা ব্যাপক উল্লাস প্রকাশ করে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।চলতি মাসের ৩ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনই জিতেছেন, তা নিশ্চিত হওয়ার পর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ট্রাম্প হার মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যাচ্ছেন; ফল উল্টে দিতে বেশ কয়েকটি রাজ্যে তার আইনজীবীরা একের পর এক আইনি লড়াইয়েরও সূচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নির্বাচনী কর্মকর্তারা ট্রাম্পের ‘ভোট জালিয়াতির’ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। ভোটে ‘গুরুতর কোনো অনিয়ম’ দেখেননি বলেও জানিয়েছেন তারা।শনিবার ট্রাম্প সমর্থকরা তাদের ‘মিলিয়ন মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন মার্চের’ অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে হোয়াইট হাউসের নিকটবর্তী ফ্রিডম প্লাজা থেকে ক্যাপিটল হিলের সুপ্রিম কোর্ট ভবন পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এ সময় ‘চুরি থামাও’বলে স্লোগান দেয় তারা। সমাবেশের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের গাড়িবহর সমর্থকদের ভিড়ের ভেতর দিয়েই ভার্জিনিয়ার স্টার্লিংয়ে তার গলফ কোর্সের দিকে এগিয়ে যায়। ‘মেইক আমেরিকা গ্রেইট অ্যাগেইন’ স্লোগান লেখা লাল বেসবল ক্যাপ পরা প্রেসিডেন্টকে দেখতে পেয়ে এ সময় বিক্ষোভকারীরা উল্লসিত হয়ে ওঠে। ট্রাম্পকেও তার প্রেসিডেন্সিয়াল লিমুজিন থেকে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে দেখা যায়।তারা কারচুপি ও দুর্নীতির নির্বাচনের পক্ষে নেই,” পরে টুইটারে লেখেন ট্রাম্প।এদিন লাখ লাখ মানুষ তার অভিযোগের পক্ষে ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও সমাবেশে উপস্থিত লোকের সংখ্যার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সমাবেশে ট্রাম্প যা আশা করেছিলেন, তার চেয়ে অনেক কম লোক হয়েছে।এ সমাবেশে যোগ দিতে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ থেকে ওয়াশিংটনে আসা ডনাল্ড টারসা জুনিয়র বলেছেন, “আমার মনে হয়েছে এই নির্বাচনে অনেক জায়গায় কারচুপি হয়েছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমও অনেক পক্ষপাতিত্ব করেছে, তারা লাখ লাখ নাগরিককে বাইডেনের পক্ষে ভোট দিতে উৎসাহিত করেছে। ট্রাম্পকে ঘৃণা করে তারা।”এ সমাবেশে কট্টর ডানপন্থি প্রাউড বয়েজ গোষ্ঠীর অনেক সদস্যকেও দেখা গেছে; তাদের বেশিরভাগেরই পরনে ছিল কালো পোশাক। তাদের কারও কারও মাথায় হেলমেট ছিল, অনেকের গায়ে বুলেট প্রুফ জ্যাকেটও ছিল। একই দিন ওয়াশিংটনে সুপ্রিম কোর্টের কাছে বাম ঘরানার কিছু গোষ্ঠীও পাল্টা ছোট ছোট কর্মসূচি করেছে; এসব কর্মসূচিতে কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত এন্টিফার সদস্যদেরও দেখা গেছে।পাল্টা-প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এদের অনেককে কালো ছাতা ও হাতে বানানো ঢাল বহন করতে দেখা গেছে। ট্রাম্প সমর্থকরা যেন পেছন দিক থেকে এসে চড়াও হতে না পারে সেজন্য অনেকে সারি সারি বাইসাইকেল রেখে ব্যারিকেড তৈরি করেন।ওয়াশিংটন ডিসিতে এসব পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে আধ ডজনের মতো ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং বেশকিছু উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও তেমন বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ঘটেনি। ধস্তাধস্তির একটি ঘটনার সময় শুধু ছুরিকাঘাতের একটি ঘটনা ঘটেছে। এক ব্যক্তি ছুরিকাহত হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তাকে একটি ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে শহরের ফায়ার অ্যান্ড ইমারজেন্সি মেডিকেল সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ট্রাম্প সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির পর এ ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ধস্তাধস্তির সময় ট্রাম্প সমর্থকদের অনেকের হাতেই ছোট ছোট লাঠি দেখা গেছে।

শনিবার বিকাল পর্যন্ত ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্রের আইন লংঘন, হামলা এবং পুলিশ কর্মকর্তার উপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে পুলিশের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেন শনিবার সকালে ডেলওয়ারে তার বিচ হাউসে ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মন্ত্রিসভার সদস্য বেছে নেওয়ার কাজ এগিয়েছে কিনা এক সাংবাদিকের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তাকে ‘হ্যাঁ’ বলতে শোনা গেছে।