ভোটের পর অভিযোগ তুলল বিরোধীরা

স্যন্দন প্রতিনিধি। আগরতলা। ৬ এপ্রিল : মঙ্গলবার অধিকাংশ বুথে মানুষ সাহসের সাথে সাংবিধানিক ভোট প্রদান করার জন্য শুভেচ্ছা জানায় রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল সিপিআইএম। ৬৫ শতাংশ বুথে পুনঃনির্বাচনের দাবি করল সি পি আই এম। মঙ্গলবার স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের শেষে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা বললেন বিরোধীদলের রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাশ। তিনি বলেন, এটা অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হয় নি।

বিজেপি এবং আইপিএফটি দুর্বৃত্ত বাহিনীর জন্য মানুষের ভোটাধিকার হরণ হয়েছে অধিকাংশ এলাকায়। ভোটের আগের দিন অর্থাৎ সোমবার দুপুর থেকে মোটর বাইক নিয়ে ভয়ভীতি এবং সন্ত্রাস শুরু করেছে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি। বিষয়টি রিটানিং অফিসার এবং পুলিশের কাছে জানানো হলো কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভোটদাতাদের বাধা দান করে সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে তারা। তারা বেশিরভাগ ছিল বহিরাগত। জোর করে মারপিট করে ভোটের লাইন থেকে বের করে দেওয়া হয় ভোটারদের। এগুলি দুপুর পর্যন্ত চলে অধিকাংশ বুথে।

 ভোট কর্মীদের কোন রকম হস্তক্ষেপ ছিল না দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশনারকে ভোটের আগে একাধিকবার জানানো হলো কাজের কাজ কিছুই হয় নি। নিরাপত্তা কোন ব্যবস্থা ছিল না বলেই চলে। মনু ছৈলেংটার দলের সদস্য এদিন আক্রান্ত হন। একইভাবে কাঠালিয়া, মির্জা, রাজাপুর এলাকায় মনোনীত প্রার্থী মঙ্গলবার জওহর দেবনাথ বীরচন্দ্র শহীদ স্মৃতি স্কুলে আক্রান্তের চেষ্টা করে দুস্কৃতিকারীরা। সেখানে কুখ্যাত সমাজ দ্রোহী বিকাশের নেতৃত্বে এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনার চেষ্টা হয়। কিন্তু মানুষ তিন বছরের মধ্যে দৃঢ় মানসিকতার দেখা গেছে এদিন ভোটে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনার নিষ্ক্রিয় ভূমিকা ছিল এদিন। পাশাপাশি পুনর্ভোট করার জন্য দাবি জানান তারা।

প্রচন্ড ভয় ভীতি দূরে সরিয়ে মানুষ ভোট দিতে গেছে মঙ্গলবার। এর জন্য ভোটারদের শুভেচ্ছা জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাস। তিনি বলেন মানুষ গণতন্ত্রের জন্য প্রস্তুত। ভোটের দিন কংগ্রেসের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে শাসক দল দুস্কৃতিকারীরা। এবং ভোট ক্যাপচার করে ভোট দিয়েছে তারা। বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানুষ প্রতিহত করেছে। জুলাই বাড়িতে বেশ কিছু কেন্দ্রে বুথ দখল করার চেষ্টা করেছে সন্ত্রাসীরা। মানুষ গণধোলাই দিয়েছে তাদের। এটা একটা শুভ লক্ষণ। মাতাবাড়ি এবং গোলাঘাটি কেন্দ্রের যুব মোর্চার সভাপতিকে গণধোলাই দিয়েছে মানুষ। দক্ষিণ জেলার বিজেপি টার্গেট করেছিল। এগুলো পুলিশের নজরে নেওয়া হয়েছে। ২৬ নং কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে ছাপ্পা ভোট হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি।

এদিকে প্রদেশ বিজেপি'র পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি তোলা হয় রাজ্যের মানুষ এ প্রথমবার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে এডিসি এলাকায়। মানুষের কাছে উন্নয়ন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু কিছু অপশাসন থাকায় কিছু স্থানে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। দলের কর্মীদের উপর আক্রমণের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে একটা নতুন ধারায় চলতে শুরু করেছে রাজ্য। অপশাসনের সংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে বিনাশ ঘটছে এবং সবকা সাথ সবকা বিকাশ হবে বলে সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিমত ব্যক্ত করেন প্রদেশ বিজেপি মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য।