প্রাক্তন নির্বাচকের বিস্ফোরণ - বৈঠকের পর কোহলি-শাস্ত্রীর সঙ্গে মুখ দেখাদেখি বন্ধ থাকত!

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ৯ জুন :  ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক ছিলেন এমএসকে প্রসাদ। তাঁর কার্যকালের মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট দল ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০১৯ সালে আইসিসি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিল। প্রসাদের মেয়াদ চলাকালীন এমন কয়েকটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল, যা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়।

তারমধ্যে একটা সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপ দলে অম্বাতি রায়াডুর জায়গায় বিজয় শঙ্করকে নেওয়া। প্রধান নির্বাচক হিসেবে নিজের কার্যকাল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলেন এমএসকে প্রসাদ।একটা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, "অনেকবারই এমন হয়েছে যে কোনও বৈঠকে বিরাট কোহলি এবং রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে প্রচন্ড ঝামেলা হয়েছে। বৈঠকের পর আমরা একে অপরের মুখ পর্যন্ত দেখতাম না। যদিও পরেরদিন সকালবেলাই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যেত।"প্রসাদ আরও যোগ করেন, "কখনও কখনও তো আমরা বৈঠকের পর একে অপরের মুখই দেখতে চাইতাম না। কিন্তু, পরেরদিন সকালবেলা যখন দেখা করতাম, আমরা একটা ব্যাপারকে যথেষ্ট সম্মান করতাম। এটাই যে আমরা বৈঠকে যাই ঝামেলা করে থাকি না কেন, সেটা ক্রিকেটের উন্নতির স্বার্থেই করেছি।" তিনি আরও যোগ করেন, আমি নিজে ম্যানেজমেন্টের ছাত্র। তাই খুব ভালো করেই জানি যে লোকজনকে কীভাবে ম্যানেজ করতে হয়।প্রাক্তন উইকেটরক্ষক এমএসকে প্রসাদ বললেন, লোকজন এটাই চান যে আমি সার্বজনিকভাবে কাউকে দোষারোপ করি? আমি কেন এই কাজ করব? কারণ এটাই তো আমার পরিবার। আমার ব্যক্তিগত পরিবারেও যদি কারোর সঙ্গে ঝামেলা হয়, তাহলেও কি আমি সবার সামনে কাউকে দোষারোপ করব?

আশা করি, বিরাট কোহলি এবং রবি শাস্ত্রী আপনাদের বলবেন যে বৈঠক চলাকালীন আমাদের মধ্যে কতটা শানিত বিতর্ক হত। ব্যক্তিগত স্তরে আমাদের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য নেই। তার মানে এটা নয় যে ওনাদের সামনে আমাকে মাথা নিচু করে থাকতে হবে। কেউ তো জানেই না, কত কঠিন সিদ্ধান্ত আমি ওদের নিতে বাধ্য করেছি।ভারতীয় ক্রিকেট দল যে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছেছে, তা নিয়ে যারপরনাই খুশি প্রসাদ। তিনি বললেন, এই কঠিন পথে আমিও কিছুটা ভূমিকা পালন করেছি। এই দলটা একেবারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল জয়ের দাবিদার। কারণ গত চার বছর ধরে তাঁরা একনম্বরে ছিলেন। ফাইনাল ম্যাচ দেখার জন্য আর তিনি অপেক্ষা করতে পারছেন না।