পেনসিলভেইনিয়াতেও এগিয়ে গেলেন বাইডেন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ৬ নভেম্বর: জর্জিয়ার পর এবার ২০ ইলেকটোরাল ভোটের গুরুত্পূর্ণ রাজ্য পেনসিলভেইনিয়াতেও রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে গেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। রয়টার্স জানিয়েছে, ৯৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ট্রাম্পের চেয়ে ৫ হাজার ৫৮৭ ভোটে এগিয়ে গেছেন বাইডেন। ভোট গণনা এখনও চলছে।এ রাজ্যে এ পর্যন্ত ৬৬ লাখ ভোট পড়েছে। গণনা হওয়া ভোটের ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ ট্রাম্প এবং ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ বাইডেন পেয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এ রাজ্যে ভোট গণনা শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প এগিয়ে ছিলেন।   এ রাজ্যে জয়ী হতে পারলেই জো বাইডেনের ইলোকটোরাল ভোট হয়ে যাবে ২৭৩, অর্থাৎ, তিনি পৌছে যাবেন হোয়াইট হাউজে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে অন্তত ২৭০টি নিশ্চিত করতে হয়।

এ পর্যন্ত ২১৪ ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে ট্রাম্প সেই ‘ম্যাজিক নাম্বর’ থেকে ৫৬ ভোট পিছিয়ে আছেন। বাইডেন যত এগোচ্ছেন, ততই ফিকে হচ্ছে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজের দখল ধরে রাখার আশা।১৬ ইলেকটোরাল কলেজের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য জর্জিয়ায় শেষ ১ শতাংশ ভোট গণনার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে টপকে যাওয়া জো বাইডেন ব্যবধান আরও একটু বাড়িয়েছেন।  বিবিসি জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেন এখন রিপাবলিকান ট্র্যাম্পের চেয়ে ১ হাজার ৯৬ ভোটে এগিয়ে আছেন। এ রাজ্যে ভোট পড়েছে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৯১টি। তার মধ্যে ৯৯ শতাংশ ভোট ইতোমধ্যে গণনা করা হয়েছে। বাইডেন যদি শেষ পর্যন্ত জর্জিয়া জিতে নেন, তিনি হবেন ১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটনের পর এ রাজ্যের সমর্থন পাওয়া প্রথম ডেমোক্র্যাট প্রার্থী।সিবিএস জানিয়েছে, জর্জিয়ায় এখনও যা ভোট গণনা বাকি আছে তার অধিকাংশই গুইনেট ও ক্লেইটন কাউন্টিতে। গুইনেটে বাকি আছে ৪ হাজার ভোট আর ক্লেইটনে ২ হাজার।

ক্লেইটন কাউন্টি প্রয়াত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ও নাগরিক অধিকার কর্মী জন লুয়িসের নিজের জেলা। এখানে এ পর্যন্ত বাইডেনের পাওয়া ১ হাজার ৬০২ ভোটের বিপরীতে ট্রাম্প পেয়েছেন ২২৩ ভোট।       কিছু কাউন্টি তাদের নির্বাচনী কর্মীদের রাতে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেও ক্লেইটন সকাল পর্যন্ত ভোট গণনা চালিয়ে যায়। বাইডেন এ কাউন্টির ভোটেই ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেছেন বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।গুইনেট কাউন্টিতে ডাক যোগে আসা প্রচুর আগাম ভোটের গণনা বাকি। এসব ভোট নিয়ে ‘ফয়সালা’ করার ব্যাপার রয়েছে বলে সিএনএন জানিয়েছে।এই ভোটের কোনো একটি নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে পুরো ব্যাচের (২৫টি করে এক ব্যাচ) ভোট একপাশে সরিয়ে রেখে সেগুলোর ফয়সালা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ভোট গণনা শেষ হতে আরও সময় লেগে যাবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর ভোট গণনা এখনও চলছে। তার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক আইনি পদক্ষেপ এবং ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ নিয়ে যে ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি হয়েছে, তা শিরোনাম হচ্ছে চীন, ইরান ও রাশিয়ার গণমাধ্যমগুলোতে।চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস বলছে, এই ভোট যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিভাজন, সহিংসতা, দুর্ভোগ’ বয়ে এনেছে। চীনে এই নির্বাচন মূলত হাসি-ঠাট্টার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইরানের সম্প্রচারমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে ভোট গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভের খবর দিয়েছে। রেডিও ইরান (ভিআইআরআই) যুক্তরাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকার মধ্যে নির্বাচনী ফলাফলের অস্পষ্টতা নিয়ে প্রতিবেদন করেছে।রাশিয়ার ক্রেমলিনপন্থি টিভি চ্যানেলগুলো শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে আর শীর্ষ সংবাদ হিসাবে প্রচার না করলেও অন্যান্য সব চ্যানেলেই প্রাধান্য পেয়েছে ট্রাম্পের তোলা ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ। তবে ট্রাম্পের এই অভিযোগের যে কোনও প্রমাণ নেই তা খবরে বলা হয়নি।যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে পোস্টাল ভোট গণনা চলার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘অবৈধ’ ভোট গোনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোটে অনিয়মের কোনও প্রমাণ নেই।
 বিবিসি রেডিও ফাইভ-লাইভ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মিশন ‘দ্য অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি এন্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ (ওএসসিই) এর মুখপাত্রের কাছে ট্রাম্পের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন- অনিয়মের কোনও প্রমাণ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাটকীয় ভোটের লড়াই চলছে ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে চিহ্নিত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য জর্জিয়ায়, গণনার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে গেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।সিএনএন বলছে, জর্জিয়ায় বাইডেন এখন ট্রাম্পের চেয়ে ৯১৭ ভোটে এগিয়ে আছেন। গণনার শুরু থেকেই এ রাজ্যে এগিয়ে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে ট্রাম্প ১৮ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন । এ রাজ্যে ভোট পড়েছে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৯১টি। তার মধ্যে ৯৯ শতাংশ ভোট ইতোমধ্যে গণনা করা হয়েছে। শতাংশের হিসাবে দুজনেই এখন পর্যন্ত পেয়েছেছন ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ করে ভোট। 

যুক্তরাষ্ট্রের সব রাজ্য মিলিয়ে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে ২৫৩টি পেয়েছেন বাইডেন। চূড়ান্ত জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট থেকে মাত্র ১৭ ভোট দূরত্বে আছেন তিনি।জর্জিয়ায় ইলেকটোরাল ভোট আছে ১৬টি। ফলে এ রাজ্যে জয় পেলে বাইডেন পৌঁছে যাবেন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে।অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত জিতেছেন ২১৪ ইলেকটোরাল ভোট; চূড়ান্ত জয় পেতে হলে তার চাই আরও ৫৬ ভোট।জর্জিয়ার পাশাপাশি নেভাডা, পেনসিলভেইনিয়া ও অ্যারিজোনা ও নর্থ ক্যারোলাইনায় এখনও ভোট গণনা চলছে। এসব রাজ্যের ফলাফলই নির্ধারণ করে দেবে দুই প্রার্থীর ভাগ্য।  বাইডেন যদি জার্জিয়ায় জিতে যান, আর বাকি চার রাজ্যের মধ্যে যে কোনো একটিতে জয় নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলেই তার হোয়াইট হাউজে যাওয়া নিশ্চিত।বাইডেন যদি জর্জিয়া জিতে নেন, তাহলে তার ইলেকটোরাল ভোট হবে ২৬৯, অর্থাৎ মোট ভোটের অর্ধেক। সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আর ২৭০ ভোট পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তখন বাকি সব রাজ্যে ট্রাম্প জয় পেলেও ফল হবে রোমাঞ্চকর টাই।হোয়াইট হাউজের দখল ধরে রাখতে হলে ট্রাম্পকে জর্জিয়ায় হারলে চলবে না। সেই সঙ্গে পেনসিলভেইনিয়া এবং আরও অন্তত দুটি রাজ্যে জিততে হবে।  আর যদি নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেই যায়, মানে দুই প্রার্থীর ইলেকটোরাল কলেজ ভোট যদি সমান সমান হয়েই যায়, তখন মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটিতে সিদ্ধান্ত হবে, কে হবেন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পর এবার নেভাডা রাজ্যেও মামলা করেছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রচার শিবির। এবিসি নিউজ বলছে, অভিযোগগুলোর মধ্যে ভোট গণনা স্থগিত করাসহ আরও কিছু অভিযোগ আছে যেগুলো এরই মধ্যে অন্যান্য আদালতে উপস্থাপন করে সফল হতে পারেনি ট্রাম্প শিবির।কোনও প্রমাণ না দিয়েই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্লার্ক কাউন্টির নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তার মধ্যে ৩ হাজারের বেশি অযোগ্য মেইল ইন ভোট ছিল এবং ডাকযোগের ব্যালটের সত্যতা যাচাই পক্রিয়াতেও ঘাটতি ছিল।যেসব রাজ্যে বাইডেন এগিয়ে আছেন বা বাইডেনের সঙ্গে ট্রাম্পের এগিয়ে থাকার ব্যবধান কমে গেছে, সেসব রাজ্যে বার বার নির্বাচনে জালিয়াতি এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প।সিনেটর জোনস আমাকে জানালেন, ভোটের ফল আপনার জয়ের দিকেই ইংগিত করছে। তাই আমিও আপনাকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আমরা তো ভোটের ফয়সালা আমেরিকার জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম, আর তাদের ইচ্ছাই তো আইন।”১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ান ভোটের দুদিন পর সংক্ষিপ্ত এই টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী উইলিয়াম ম্যাকিনলিকে।আসলে সেদিন তিনি একটি নজির গড়েছিলেন, যার অনুসরণে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর হার মেনে নেওয়ার সুশীল রীতির সূচনা হয়।যত তিক্ততা আর বৈরিতাই থাকুক, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সব নির্বাচনেই পরাজিত প্রার্থীরা ওই রীতি ধরে রেখেছেন। আর তা ঘটেছে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।  হার মেনে নেওয়ার কোনো আইনি বা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। কেউ তা করতে না চাইলে আদালতে যেতে পারেন, তাতে জনমনে বিভ্রান্তি আর বিভক্তিও বাড়তে পরে।২০০০ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আল গোর নির্বাচনে জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছে হার মেনে নিয়েও পরে তা প্রত্যাহার করেছিলেন নিজের বেশি পপুলার ভোট পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর। অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত বুশের পক্ষেই রায় দিয়েছিল।এ বছরের নির্বাচন ইতোমধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তকমা পেয়ে গেছে। রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় এখনই শেষ কথা বলা যাচ্ছে না।মঙ্গলবার ভোটের পর তিন দিন ধরে চলছে চূড়ান্ত ঘোষণার অপক্ষা, আগের নির্বাচনগুলোতে পরাজিত প্রার্থীদের হার মেনে নেওয়ার ঘোষণা আর ভিডিও ক্লিপ অনেকে শেয়ার করছেন ইন্টারনেটে।