নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ'কে বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে : পীযূষ

স্যন্দন প্রতিনিধি। আগরতলা। ৪ মে। বিজেপি'র পায়ের নীচের মাটি নেই, তাই তারা সন্ত্রাস করছে বলে অভিযোগ তুলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাস। রাজ্যে আইনের শাসন নেই। বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার এবং বিধায়কদের গণতান্ত্রিক অধিকার শাসক দল বিজেপি ছিনতাই করে চলেছে। রাজ্য পুলিশ সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে কংগ্রেস কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে শাসক দলের কর্মীরা এবং পুলিশ ধমকাচ্ছে।

মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ তুলে ধরলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাস। তিনি বলেন, গত তিন বছরে রাজ্যে সন্ত্রাসজনক ঘটনাগুলি কোনো সুরাহা হচ্ছে না। সোমবার বিজেপি কর্মীরা এবং বিধায়িকা কল্যাণী রায়ের কাছে কংগ্রেস দলের কর্মীরা অভিযোগ জানাতে গেলে আক্রমণ করা হয়। ঘটনার বিবরণ জানিয়ে সোমবার রাতে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের কাছে যুব কংগ্রেস এবং এন এস ইউ আই দেখা করতে গেলে মঙ্গলবার দেখা করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের কাছ থেকে কোন ডাক পাওয়া যায়নি। পুলিশের কোনো কার্যকরি ভূমিকা না থাকায় শাসক দলের দুস্কৃতিকারিরা বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার নামিয়ে আসছে। যারা সোমবার তেলিয়ামুড়া ঘটনায় সাংবাদিকতার নাম করে রটিয়েছে, কিন্তু তারা আসলে সাংবাদিক নয়।

 তারা বিজেপি হয়ে গুন্ডামি চালাচ্ছে। আর সাংবাদিকতার নাম করে কোন একটি রাজনৈতিক দলের জন্য কাজ করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা রয়েছে। বিধায়িকা ধর্না উস্কানিমূলক বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এবং এদিন রাতে ৭ টি বাড়িতে প্রাণঘাতী হামলা চালায় শাসক দলের দুস্কৃতিকারিরা। সোমবার রাতে দুস্কৃতিকারিরা সুব্রত দাস, হরিপদ দাস, বিপ্লব রায় সহ সাতজন কংগ্রেস কর্মীর বাড়িতে লুটপাট চালায়। মাথায় বন্দুক উঁচিয়ে স্বর্ণালঙ্কার সহ দেড় লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেয়। দুষ্কৃতিকারিদের হাত থেকে মহিলা, শিশু সহ কেউই রক্ষা পায়নি। তবে সেদিনের ঘটনার মূল অভিযুক্ত অনির্বাণ সরকার সহ যুব মোর্চার গুন্ডাবাহিনী জড়িত। ভিডিও ছবি সহ সমস্ত সন্ত্রাসী ঘটনা পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। আর যদি এ ঘটনার বিরুদ্ধে পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে প্রদেশ কংগ্রেস। কংগ্রেস প্রয়োজনে হাইকোর্টে যাবে। চুপ থাকবে না কংগ্রেস কর্মীরা বলে হুঁশিয়ারি দিলেন পীযূষ কান্তি বিশ্বাস। তিনি আরো বলেন, শাসক দল বিজেপি পায়ের নিচের মাটি চলে গেছে। দিল্লি ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ বাংলার পড়ে থাকলেও, বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে বিজেপি'কে। বিজেপি'কে মানুষ আর গ্রহণ করবেন না। বিজেপি দিন শেষ বলে জানান তিনি।