নতুন সংক্রমণ ১৪১, মৃত্যু ১

স্যন্দন প্রতিনিধি। আগরতলা। ৩০ এপ্রিল। ২৪ ঘন্টায় সংক্রমণ রাজ্যে ১৪১ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। নমুনা পরীক্ষা হয় ৪৪২২ জন। সুস্থ হয় ৬৭ জন। এবং সুস্থতার হার কমে দাঁড়ায় ৯৫.৭৬। কিন্তু সংক্রমণের এ ঊর্ধ্ব গ্রাফে নয়া চিন্তার কারণ দেখা দিয়েছে। কোভিড সেন্টারগুলিতে রোগীর ভিড় বাড়ছে। অক্সিজেন সাপোর্ট ব্যাডের চাহিদা বাড়ছে। সংকটময় অবস্থার দিকে এগুচ্ছে রাজ্য।

দেশের দিল্লি, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, রাজস্থান সহ একাধিক রাজ্যে করোনা ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। অক্সিজেনের অভাবে দেশে প্রতিদিন বহু রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। দেশের সরকার অক্সিজেন নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছ থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সরবরাহ করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে চলেছে। কারণ দিল্লি, মহারাষ্ট্রে, কর্ণাটকে বিশেষভাবে অক্সিজেনের আকাল দেখা দিয়েছে। যেসব রাজ্যে অক্সিজেনের উৎপাদন হচ্ছে সেসব রাজ্য কোন রাজ্যকে অক্সিজেন সরবরাহ করতে চাইছে না। একই অবস্থা ফুটে উঠতে চলেছে ত্রিপুরা এবং আসামের মধ্যে।

রাজ্যে বোধজংনগর এলাকায় অক্সিজেনের দুটি বেসরকারি প্লান্ট রয়েছে। দেশে অক্সিজেন সংকট দেখা দিতেই ত্রিপুরা রাজ্যকে অক্সিজেন লিকুইড রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে আসাম সরকার। ফলে গত ১০-১২ দিন যাবত আসাম থেকে রাজ্যের বেসরকারি অক্সিজেন প্ল্যান্ট গুলিতে অক্সিজেন লিকুইড রপ্তানি হচ্ছে না। সম্প্রতি স্বাস্থ্য দপ্তরে একটি প্রতিনিধি দল বোধজংনগর এলাকায় অক্সিজেনের দুটি বেসরকারি প্লান্ট পরিদর্শন করে আসলেও এখন পর্যন্ত রাজ্যে লিকুইড আমদানি করার কোন ব্যবস্থা গ্রহন করে নি। বেসরকারি প্লান্ট কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য দপ্তর আধিকারিকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন রাজ্যে যাতে লিকুইড অক্সিজেন আনার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে সূত্রে খবর। বর্তমানে মজুত যে অক্সিজেন লিকুইড ছিল, তা জিবি হাসপাতালের সরবরাহ করা হচ্ছে বলে সূত্রে জানা যায়। এবং পূর্বের ন্যায় হাপানিয়া হাসপাতালে ও বেসরকারি নার্সিং হোমগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহ হচ্ছে না। সরকারিভাবে কোনো কিছু স্পষ্ট না করায় সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে দুচিন্তা। কারণ ইতিমধ্যে করোনা নতুন বৈশিষ্ট্য রাজ্যে শনাক্ত হয়েছে। জিবি হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পূর্বে ২০-৩০ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে দৈনিক কাজ চলতো। কিন্তু বর্তমানে কোভিডের জন্য অক্সিজেন চাহিদা বেড়ে চলেছে। দৈনিক ৭০-৮০ টি সিলেন্ডার রোগীদের জন্য লাগছে।