ধর্নায় বসলেন স্বদলীয় বিধায়ক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২৮এপ্রিল : মুখ্যমন্ত্রীর উন্মাদ জেলা শাসককের বিরুদ্ধে এবার ধর্নায় বসলেন স্বদলীয় বিধায়ক আশীষ দাস। মুখ্যমন্ত্রীকে ১২ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বিধায়কদের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী উদ্দেশ্যে জেলাশাসক শৈলেশ কুমার যাদবকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর খাস জেলাশাসককে বরখাস্ত তো দূরের কথা, জেলা শাসকের বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখেননি রাজ্যবাসী। বুধবার বারোটা নাগাদ সার্কিট হাউসে মহাত্মা গান্ধীর পাদদেশে ধর্নায় বসেন স্বদলীয় বিধায়ক আশীষ দাস। এদিন বিধায়ক আশীষ দাস সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিযুক্ত জেলা শাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, ২৬ এপ্রিল রাজ্যের জন্য কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে।

এদিন জেলাশাসক মানিক্য কোট এবং গোলাপ বাগান দুইটি বিয়ে বাড়িতে গিয়ে হাঙ্গামা করেন। বিয়ে বাড়িতে গিয়ে বর এবং বরের আত্মীয়-স্বজন সহ পুরোহিতের ঘাড় ধাক্কা দেন। রাজ্যের জন্য কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে উঠেছে। মহিলা পুলিশ ছাড়াই অত্যাচারি জেলাশাসক প্রশাসনিক কাগজ ছিড়ে মহিলাদের উপর ছুড়ে ফেলেন। মানবজাতির জন্য এটা অভাবনীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। ব্রিটিশ শাসনকে হার মানিয়েছে অত্যাচারি জেলাশাসকের শাসন ব্যবস্থা। মঙ্গলবার এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ১২ ঘন্টার মধ্যে বরখাস্ত করতে জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ আছে মুখ্যমন্ত্রী স্বৈরাচারী জেলাশাসককে বরখাস্ত না করলে রাজ্যে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। কারণ রাজ্যের ইতিহাস, সংস্কৃতি কলঙ্কিত করেছেন জেলাশাসক। বিধায়ক শ্রী দাস আরো বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলে থাকেন তিনি ৩৭ লক্ষ মানুষের জনদরদি মুখ্যমন্ত্রী। তাই রাজ্যবাসী দেখতে চায় মুখ্যমন্ত্রী কতটুকু জনদরদি।

১২ ঘন্টা অতিক্রম, ২৪ ঘন্টা অতিক্রম, ৪৮ ঘন্টা অতিক্রম হতে চলছে মুখ্যমন্ত্রী এখনো স্বৈরাচারী জেলাশাসকের সঙ্গ দিচ্ছেন। ৩৭ লক্ষ রাজ্যবাসী দেখছে মুখ্যমন্ত্রী কতক্ষণ স্বৈরাচারী জেলাশাসকের সঙ্গ দেন। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিলেন বিধায়ক। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যবাসী দেখিয়ে দেবে আন্দোলন কতদূর পর্যন্ত যায়। পুলিশকে ধাক্কা দেওয়া অধিকার জেলা শাসক কোথা থেকে পেয়েছেন। তাই এ জেলা শাসকের বিরুদ্ধে মানব অধিকারের মাধ্যমে মামলা নেওয়া জরুরি। মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করেছেন জেলাশাসক। জেলাশাসকের জেল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ প্রাকৃতিক নিয়মে যে বিয়ে হয়, আর এ বিয়েতে আক্রমণের ঘটনা রাজ্যে বিরল। তিনি প্রাকৃতিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ তুলেন বিধায়ক। এদিন ধর্না সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে স্বদলীয় বিধায়কের হুঁশিয়ারি এখন কতটা কাজে আসে সেটাই দেখার বিষয় ৩৭ লক্ষ রাজ্যবাসীর। তবে জনমনে উঠেছেন নানা প্রশ্ন। ঘটনার পেছনে কি কোন রকম রহস্য আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলছে অভিজ্ঞ মহল।