দুর্বৃত্তদের দ্বারা আহত চিকিৎসক

স্যন্দন প্রতিনিধি। আগরতলা। ১৭ মে। রবিবার সন্ধ্যায় জিবির ট্রমা কেয়ার সেন্টারে দায়িত্বে ছিলেন পোষ্ট গ্র্যাজুয়েটের চূড়ান্ত বর্ষের দুই চিকিৎসক। সে সময় কিছুটা রোগীর চাপ বাড়ে। নিয়ম অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে আসা রোগীদের দেখতে হয় চিকিৎসকদের। সেই অনুযায়ী সমস্ত রোগীকে দেখতে শুরু করেন চিকিৎসকেরা। একজন রোগীর স্টিচ করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন পোষ্ট গ্র্যাজুয়েটের চূড়ান্ত বর্ষের অর্থোপ্যাডিস্কের ডাঃ অরুপ দাস।

সেই সময় একজন দুর্ঘটনাগ্রস্থ রোগীকে ট্রমা সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। কিছুক্ষনের মধ্যেই আসে বাড়ির লোকেরা। দুজন চিকিৎসক ব্যস্ত ছিলেন অন্য রোগীদের নিয়ে। আচমকা দুর্ঘটনা গ্রস্থ রোগীর পরিবারের এক সদস্য মদমত্ত অবস্থায় এসে চিৎকার চেঁচা মেচি শুরু করেন। ডাঃ অরুপ দাস সেলাই কাজে ব্যস্ত থাকায় অপর রোগীকে ওটির সামনে থেকে দেখেন তাঁর হাত কেটে গেছে। কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে বলেন। সেই রোগীর অবস্থা ততটা সঙ্কট জনক নয় বলে জানান ডাঃ অরুপ দাস। কিন্তু এর পরেই সেই রোগীর পরিবারের এক মদমত্ত  সদস্য ওটির ভেতরে এসে বাকবাদ্য শুরু করেন। তাকে চুপ থাকতে বলে চিকিৎসক। কিন্তু কোন ভাবেই সে বেরুতে চায়নি। উল্টে গালি গালাজ শুরু করে সেই মদমত্ত যুবক। এরপর ডাঃ অরুপ দাস তাকে জোর করে ওটি থেকে বের করে দিলে আক্রমনাত্ম হয়ে ওঠে মদমত্ত যুবক।

চিকিৎসক অরুপ দাসকে বেধড়ক মারধোর করে। ছুটে আসে অন্যান্য কর্মীরা। সেই মদমত্ত যুবকের হাত থেকে রক্ষা করে ডাঃ অরুপ দাসকে। এই ঘটনায় ডাঃ অরুপ দাস জিবি ফাঁড়িতে একটি মামলা দায়ের করেন। এই ধরনের ঘটনায় স্তম্ভিত তিনি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। সোমবার ঘটনা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন ভূমিকা না থাকায় এ জি এম সি-র প্রন্সিপাল কে কে কুন্ডুর কাছে ঘটনা সম্পর্কে অবগত করে বেশ কিছু দাবি তুলে দেয় পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকেরা। তাদের বক্তব্য হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হোক, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। একই সঙ্গে হাসপাতালে স্বশস্ত্র বাহিনীর নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানান পোষ্ট গ্র্যাজুয়েটের চিকিৎসকেরা। গোটা ঘটনা নিয়ে এম এস -এর কাছে লিখিত দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রন্সিপাল। এম এস যেহেতু প্রশাসনিক প্রধান তাই তাকে অবগত করলে তিনি একটি মামলা দায়ের করবে বলে জানানো হয় তাদের। কিন্তু জিবির ট্রমা সেন্টারে কর্তব্যরত চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় চাপা ক্ষোভ রয়েছে চিকিৎসক মহলে।