দাড়ি কামান', প্রধানমন্ত্রীকে ১০০ টাকা পাঠালেন মুম্বইয়ের চা বিক্রেতা

 স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ৯ জুন : দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার তলানিতে। খেতে পাচ্ছেন না বহু মানুষ। অর্থনীতির সূচক বাড়ছে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী দাড়ি বাড়ছে দিন প্রতিদিন। আর এই দৃশ্য 'সহ্য' করতে পারলেন না মহারাষ্ট্রের এক চা বিক্রেতা। নরেন্দ্র মোদীকে বেকারত্বের সমস্যা জানিয়ে চিঠি লেখার সঙ্গে সঙ্গে পাঠালেন ১০০ টাকা। সঙ্গে একটি বিশেষ বার্তা, 'এই ১০০ টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে ফেলুন।'ঘটনাটি ঠিক কী?

 মুম্বইয়ের স্থানীয় মিডিয়ার প্রকাশিত একটি খবর সম্প্রতি শোরগোল ফেলেছে। জানা গিয়েছে, অনীল মোরে নামক এক চা বিক্রেতা মোদীকে দাড়ি কামানোর জন্য ১০০ টাকা পাঠিয়েছেন। কিন্তু কেন হঠাত এই পদক্ষেপ নিলেন তিনি?সূত্রের খবর, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দেথে হতাশ অনীল। করোনা সংক্রমণের জেরে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। মহারাষ্ট্রের ইন্দাপুর রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালের উল্টো দিকে চায়ের দোকান অনীলের। চোখের সামনে নিজের ব্যবসার পাশাপাশি বহু বন্ধু, প্রতিবেশীদের কাজ হারাতে দেখেছেন তিনি। অনীল বলেন, ' নরেন্দ্র মোদী তাঁর দাড়ি বাড়িয়েছেন। কিন্তু তাঁর আদপে দেশের অর্থনীতিতে বৃদ্ধির দিকে বেশি নজর দেওয়া উচিত ছিল।

দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি, টিকাকরণে গতি আনার দিকে নজর দেওয়া উচিত ছিল। করোনার দুটি ঢেউ সাধারণ মানুষকে যে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তাঁরা সেখান থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবে, তা দেখা উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর।'এখানেই শেষ নয়, এই চা বিক্রেতা আরও বলেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমি বাস্তব পরিস্থিতিটা বুঝতে পারছি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ১০০ টাকা পাঠাচ্ছি। এই টাকা দিয়ে ওনাকে দাড়ি কামিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করতে চাইছি না। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতিতে দেশের গরীব মানুষরা যেভাবে সমস্যায় ভুগছেন, তিনি সেই বিষয়ে বিন্দুমাত্র ওয়াকিবহাল নন। তাই তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছি।'প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে অনীল আরও লিখেছেন, যে সমস্ত পরিবার করোনায় পরিজনকে হারিয়েছেন তাঁদের পাঁচ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা উচিত কেন্দ্রের এবং যে সমস্ত পরিবার লকডাউনের জন্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে তাদের ৩ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি।