তালেবানের চাপ সত্ত্বেও উজবেকিস্তান ছাড়ছেন আফগান পাইলটরা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক,১৩ সেপ্টেম্বর: উজবেকিস্তানের একটি শিবিরে প্রায় এক মাস ধরে আটকে থাকা যুক্তরাষ্ট্র প্রশিক্ষিত আফগান পাইলট ও অন্যান্য সেনারা দেশটি ছাড়তে শুরু করেছেন।রোববার তারা উজবেকিস্তান ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাওয়া শুরু করেছেন বলে এই পাইলটদের একজন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।তালেবান এই আফগান ও তাদের এয়ারক্রাফটগুলো ফেরত পাঠানোর দাবি করা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তির অধীনে তারা উজবেকিস্তান ছাড়া শুরু করেছেন।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই পাইলট জানিয়েছেন, অন্তত প্রাথমিকভাবে তাদের প্রথম দল আরব আমিরাতের পথে রওনা হয়েছে।রোববার শুরু হওয়া এই হস্তান্তর পরের দিন বা ওই রকম কোনো সময়ে শেষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।আফগান পাইলটরা উজবেকিস্তান ছাড়তে শুরু করেছে, রয়টার্স প্রথম এই খবর দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বার্তা সংস্থাটির জানানো অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের নিউ ইয়র্ক দপ্তরের উজবেকিস্তান মিশন তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। 

এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উজবেকিস্তানের ওই শিবিরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানানো হয়েছিল। তাদের তালেবান অধিকৃত আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন সেখানে আটকাপড়া আফগান পাইলট ও অন্যান্যরা। আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে তালেবান তাদের মেরে ফলতে পারে, এমন শঙ্কায় আতঙ্কিত ছিলেন তারা।তবে অগাস্টের মাঝামাঝি আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে তালেবান বলে আসছে, তারা প্রতিশোধমূলক কোনো পদক্ষেপ নেবে না।আফগানিস্তানের স্থল বাহিনী ভেঙে পড়ার পর তালেবান দ্রুত গতিতে কাবুলের দিকে এগিয়ে আসার সময় এই আফগান পাইলটরা এ-২৯ লাইট অ্যাটাক বিমান ও ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ ৪৬টি এয়ারক্রাফট নিয়ে প্রতিবেশী উজবেকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পাইলটরা দেশটি ছাড়া শুরু করলেও এয়ারক্রাফটগুলোর ক্ষেত্রে কী হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিষ্কার হয়নি।  

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এসব এয়ারক্রাফট ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য উজবেকিস্তানকে চাপ দিচ্ছিল তালেবান।উজবেকিস্তানে দায়িত্বপালন করা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন হার্বস্ট আফগান পাইলটদের সরিয়ে নেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগান পাইলটদের কাছে ঋণী।উজবেকিস্তানের পরিস্থিতির বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও তালেবান তাতে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।