ডেপুটেশনে বাধার সম্মুখীন, অভিযোগ সি আই টি ইউ -র

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ১১জুন : ভারতবর্ষের ট্রেড ইউনিয়নগুলি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দেশের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে চিঠির মাধ্যমে অবগত করে সমাধানের দাবি জানানো হবে। সেই মোতাবেক দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জেলাশাসকের মাধ্যমে ডেপুটেশন প্রদান করা হলেও ত্রিপুরা রাজ্যে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সন্ত্রাসের কারণে বহু জায়গায় ডেপুটেশন প্রদান করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে সি আই টি ইউ। শুক্রবার সি আই টি ইউ রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই অভিযোগ তুললেন সি আই টি ইউ সাধারণ সম্পাদক শংকর প্রসাদ দত্ত।

 তিনি বলেন, ১ জুন থেকে ডেপুটেশনে দেওয়া শুরু হলেও, করোনা কারফিউ এবং সন্ত্রাসের জন্য সমস্ত জায়গায় ডেপুটেশন প্রদান করা যায় নি। পানিসাগর মহকুমা রুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ডুকলি ব্লক অন্তর্গত ডেপুটেশন প্রদান করতে বাধার মুখে পড়তে হয় সি আই টি ইউ কর্মীদের। এর মধ্যে কমলপুরের দুর্গা চৌমুহনী ব্লকের ডেপুটেশন গ্রহণ করায় ব্যপক ক্ষোভের মুখে পড়ে বিডিও। পানিসাগরের রোয়াগাও পঞ্চায়েতের প্রধান ডেপুটেশন প্রদানকারীদের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। ডুকলী ব্লকের দুটি স্থানেও অনুরূপ ভাবে আক্রমণ করা হয়। কিন্তু বাধাকে উপেক্ষা করে সি আই টি ইউ রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রতিনিধিমূলক ডেপুটেশন প্রদান করে যাবে বলে জানান তিনি।  তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সরকার ভ্যাকসিন নিয়ে প্রথম থেকেই দেশবাসীর সাথে গাফিলতি করে চলেছে। সঠিক সময় মতো ভ্যাকসিনে জন্য নির্দেশ দেন নি কেন্দ্রের মোদি সরকার। ভ্যাকসিনের দিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে পিছিয়ে আছে ভারত। এতদিনে মাত্র ৩.৩ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে। দেশের মোদি সরকার কখনো ভ্যাকসিনের গুরুত্ব অনুভব করে নি। কারণ সরকার চেয়েছিল কর্পোরেটদের ভ্যাকসিনের দায়িত্ব তুলে দিতে। কিন্তু দেশে আগামী অক্টোবর মাসে করোনার তৃতীয় ঢেউ চলে আসছে। সরকারের কাছে দাবি জানানো হয় ভ্যাকসিন যাতে বিনামূল্যে সার্বজনীন করা হয়। তারপরও সরকার এখনো কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করে নি। দেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলিকে ভ্যাকসিন উৎপাদনের কাজে লাগাচ্ছে না। সবটাই সরকার কর্পোরেটদের স্বার্থে করে চলেছে। এতে দেশের চিকিৎসার পরিষেবা ভেঙে পড়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন সরকার পরিকাঠামোর অভাবে অক্সিজেন প্লান্ট বসিয়ে মানুষকে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে দিতে পারেনি। ফলে দেশের বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে অক্সিজেনের অভাবে। এবং হাসপাতালগুলিতে শুধু অক্সিজেন, বেডের অভাব রয়েছে। তাই হাসপাতালগুলিতে যাতে পরিকাঠামো সঠিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হয় তার জন্য সি আই টি ইউ পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে দাবি জানানো হয়েছে। অপরদিকে প্রথম সারির যুদ্ধা সহ ১৮ উর্ধ্বে সকলকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে মাত্র ৩০ কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু সরকার তা নিয়েও গড়িমসি করে চলেছে বলে অভিযোগ তুললেন তিনি। তাই সকলকে যাতে দ্রুত ভেকসিন প্রদান করা হয় তার জন্য দাবি জানানো হয়েছে দাবি সনদে। সরকারের কাছে আরও দাবি জানানো হয় করোনা পরিস্থিতিতে গরিব পরিবারগুলিকে যাতে আগামী ছয় মাস ১০ কেজি করে খাদ্যশস্য প্রদান করা হয়। সারা রাজ্যে ৮৩ টি নগর এলাকা, ৩০ টি ব্লক, ৬ টি জেলায় এবং ১৩ টি মহকুমা গন ডেপুটেশন প্রদান করা হয়েছে। ডেপুটেশনে ১২ দফা দাবিগুলো সাথে রাজ্যে শ্রমিক সহ সকল অংশের মানুষের সমস্যাগুলো প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। যাতে করে জনগণের স্বার্থে সরকার পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা গড়ে তুলে বলে জানান তিনি। এদিন আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সি আই টি ইউ নেতা সমর চক্রবর্তী।