জোড়া গোল সুনীল ছেত্রীর, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অনবদ্য জয় ভারতের

 স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ৭ জুন:   ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ সালের এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জনকারী ম্যাচের দ্বিতীয় রাউন্ডে আজ বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিল ভারতীয় ফুটবল। দোহার জাসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের আয়োজন করা হয়। ১১৭ নম্বর ম্যাচে ৭৩ নম্বর আন্তর্জাতিক গোলটা করলেন ভারতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী।

 তবে এখানেই শেষ নয়। ৯২ মিনিটে ভারতের গোল পার্থক্য ২-০ করে দেন সুনীল। সেইসঙ্গে ভারতের ঝুলিতে এল গুরুত্বপূর্ণ তিনটে পয়েন্ট। ১১ ম্যাচ পর কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় পেল ভারতীয় ফুুটবল দল।আজ ভারতের সেইঅর্থে কিছু হারানোর ছিল না। তাই প্রথম মিনিট থেকেই সুনীল ছেত্রীরা প্রতি আক্রমণের রাস্তায় হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু, সত্যি কথা বলতে কী, ম্যাচের প্রথমার্ধে ভারতের দখলে ৭০ শতাংশ বল থাকলেও, আক্রমণ সেভাবে দানা বাঁধতে পারেনি। মনবীর এবং সানার কাছে বেশ কয়েকটা সুযোগ এলেও, তাঁরা সেভাবে ফায়দা তুলতে পারেননি।

 ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ব্রেন্ডনের কর্নার কিক থেকে অসাধারণ একটা শট নিয়েছিলেন সানা। কিন্তু, শেষমুহূর্তে রিয়াদুল গোল লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। বল তাঁর শরীরে প্রতিহত হয়ে বেরিয়ে যায়।তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে রেফারির একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়। আসলে ২৯ মিনিটের মাথায় উদান্তা সুনীল ছেত্রীকে লক্ষ্য করে আসাধারণ একটা ক্রস বাড়ান। কিন্তু, সুনীল সেই বলে হেড দিতে গেলে পিছন থেকে তাঁকে ধাক্কা দেন তারেক এবং রিয়াদুল। ফলস্বরূপ ভারত অধিনায়ক মাঠের মধ্যে লুটিয়ে পড়েন। এরপর সুনীল পেনাল্টির আবেদন করলেও, রেফারি সেই কথায় কান দেননি। অন্যদিকে, এমন সিদ্ধান্ত দেখার পর মাথা গরম করে ফেলেন ভারতীয় ফুটবল দলের কোচ ইগর স্টিম্যাচও।

কাতারের বিরুদ্ধে ০-১ গোলে হেরে যাওয়ার পর ভারত যে আজ সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহই ছিল না। তবে আজ ম্যাচের প্রথমার্ধে সুনীলকে সেভাবে বাড়তি দায়িত্ব নিতে দেখা যায়নি। এই অবস্থায় শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধের খেলা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খেলোয়াড় বদল করেন ইগর স্টিম্যাচ। উদান্তা সিং এবং বিপিনের পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় ইয়াসির এবং আশিককে। প্রথমার্ধে ভারত দুটো উইংকে ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে তাই আর সুসংবদ্ধ আক্রমণের রাস্তায় তারা হাঁটবে।প্রথমার্ধের তুলনায় বাংলাদেশ আরও বেশি করে ফিজিক্যাল ফুটবল খেলতে শুরু করে। অন্যদিকে মাঝমাঠে ভারত বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ পাস মিস করছে। ৫৯ মিনিটে ভারতের আরও এক খেলোয়াড় বদল হল। মনবীরের বদলে মাঠে নামলেন লিস্টন কোলাসো। আজ এটিকে মোহনবাগানে ফরোয়ার্ডকে একেবারে চেনা ছন্দে দেখতে পাওয়া যায়নি। আইএসএল টুর্নামেন্টে মনবীরকে আমরা যে দুরন্ত ফর্মে দেখি, আজ তার সিকি ভাগও দেখতে পাওয়া যায়নি।৬২ মিনিটে গোল করার সোনার সুযোগ পেয়েছিলেন সুনীল ছেত্রী। ব্রেন্ডনের ফ্রি-কিক থেকে খুব ভালো জায়গায় তিনি বলটা পেয়েছিলেন।

কিন্ত, বল তাঁর মাথার বাঁ দিকে লাগে এবং মাঠের বাইরে বেরিয়ে যায়। এত ভালো সুযোগ ভারত আর পাবে কি না, সন্দেহ রয়েছে। সুনীলের সেই ম্যাজিকাল ফর্ম আমরা আজ একেবারেই দেখতে পাইনি। বরং তাঁকে খানিকটা নিষ্প্রভই দেখিয়েছে। আবার সুযোগের অপচয় করল ভারত। এবার শুভাশিষ বোস। ৭২ মিনিটে কর্নার কিক পায় ভারত। সেই কিক থেকে একটা ফ্রি হেডার করার সুযোগ পেয়েছিলেন শুভাশিষ। কিন্তু, বল গোলপোস্টের অনেকটা বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। শুভাশিষ নিজেও মাথায় হাত গিয়ে মাঠে বসে পড়েন।তবে শেষবেলায় জ্বলে উঠলেন সুনীল ছেত্রী। ৭৯ মিনিটে গোল করেন ভারত অধিনায়ক। আশিক কুরুনিয়ানের বাঁ দিক থেকে বাঁকানো ডেলিভারি থেকে সুনীল বল পান। তপু বর্মনকে পিছনে রেখে তিনি গোল করেন। পরাস্ত করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক আনিসুর রহমানকে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ভারত।তবে এখানেই গোলের খিদে মেটেনি ভারতীয় অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর। ম্যাচের ৯২ মিনিটে আবারও গোল করলেন তিনি। রিয়াদুল এবং আনিসুরকে টপকে অনেকটা ভিতরে ঢুকে আসেন ভারত অধিনায়ক। এবং অনায়াসে ভারতের দ্বিতীয় গোলটা নিশ্চিত করেন। আর সেইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক গোলের পরিসংখ্যানে মেসিকেও টপকে যান। আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে এখনও পর্যন্ত ৭২টি গোল করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সেই জায়গায় ভারত অধিনায়ক আজ ৭৪টি গোল করে ফেললেন। পাশাপাশি ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ সালের এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জনকারী ম্যাচের দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রথম জয় ছিনিয়ে আনল ভারত। এই জয়ের সঙ্গেই স্টিম্যাচ ব্রিগেড সাত ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ই-তে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে। আর ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের একবারে নিচে রয়েছে বাংলাদেশ।