জেলাশাসকের কৈফিয়ত তলব, জেলাশাসকের শাস্তির দাবি বরের

স্যন্দন প্রতিনিধি। আগরতলা। ৩০ এপ্রিল : ২৬ এপ্রিল রাত এগারোটা নাগাদ মানিক্য কোট এবং গোলাপ বাগান বিয়ে বাড়িতে নাইট কারফিউ আইন লঙ্ঘনকে কেন্দ্র করে জেলাশাসকের হট্টগোলের ঘটনায় দেশব্যাপী সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। শেষমেষ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জনগণের চাপে পড়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে আই এস কিরণ গিত্যে এবং তনুশ্রী দেববর্মাকে।

 শুক্রবার দুপুর তিনটা নাগাদ পশ্চিম জেলার জেলাশাসক শৈলেশ কুমার যাদবকে মহাকরণে কৈফিয়তের জন্য ডাকা হয়। দীর্ঘ ৩০-৪০ মিনিট কৈফিয়ত দিয়ে জেলাশাসক সাংবাদিকদের বলেন, ২৬ তারিখের ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিটি শুক্রবার ডেকেছিল। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানতে চায়। সমস্ত তথ্য তুলে ধরা হয়। এবং আইনের ধারা অনুযায়ী কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আইনি ধারা অনুযায়ী আরো সব তথ্য তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সেদিন গোলাপ বাগান বিয়ে বাড়ির বর সেভেন্টি নাইন টিলা এলাকার বাসিন্দা অরিজিৎ দাস জানান, সেদিন কনেপক্ষ বহু আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গোলাপ বাগান বিয়ে বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করেছিল। কিন্তু উন্মাদ জেলাশাসক আচমকা চড়াও হয়ে লাঠিপেটা শুরু করেন। রেহাই পায়নি ৪ বছরের শিশু থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধও। বিয়ের অনুমতির কাগজে কোথাও উল্লেখ ছিল না যে রাত দশটার পর বিয়ে করানো যাবে না। কিন্তু উল্লেখ না থাকলেও জেলাশাসক তা করে দেখালেন বলে ক্ষোভ উগড়ে দেন বর। তিনি আরো বলেন জেলাশাসক শৈলেশ কুমার যাদব লাঠি পেটা এমন ভাবে করেছেন কনে পক্ষ এবং বরপক্ষ স্বর্ণালঙ্কার ফেলে দিয়ে পালাতে হয়েছে। অন্য এক মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করতে হয়েছে। বিয়ে সেরে পরবর্তী সময়ে গিয়ে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করতে পারেনি। এবং মানুষকে খাবার টেবিল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন জেলাশাসক। পুরোহিতকে মারধর করেছেন খোদ জেলা শাসক। বিয়ের অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণটাই সম্মানহানি হতে হয়েছে তাদের বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাই এই জেলাশাসকের রাজ্যে থাকাই উচিত নয়। কারণ তিনি সেদিন যে ঘটনাটি করেছেন তার কোনো ক্ষমা হয় না। কোন মন্ত্রী বাড়ির যদি বিয়ে হতো তাহলে কি জেলাশাসক এটা করতে পারতেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বর। সাধারণ মানুষ হওয়াতে এমনটা ঘটেছে, তবে সাধারণ মানুষ হয়েছে বলে নীরবে সহ্য করতে হবে তার কোনো ভিত্তি নেই। এমনটা বলে বিচার চাইলেন বর অর্জিত। এখন পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী অফিস এবং জেলাশাসক অফিস থেকে কেউ আসেনি। তাই আগামী দিনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন তিনি। এবং সেদিন এর সমস্ত ক্ষতি পূরণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।