কোভিড-১৯: ‘মানসিক সমস্যা তৈরি হয়’ এক-পঞ্চমাংশ রোগীর

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ১০ নভেম্বর: কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার পর বেঁচে যাওয়া রোগীদের একটি অংশ মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকিতে আছেন বলে জানিয়েছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। রয়টার্স জানিয়েছে, আক্রান্তদের ২০ শতাংশের ৯০ দিনের মধ্যেই মানসিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে বলে তথ্য এসেছে এক গবেষণায়। ৬২ হাজারের বেশি কোভিড-১৯ রোগীসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে ওই গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি ল্যানসেটের সাইকিয়াট্রি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সুস্থ হয়ে ওঠা কোভিড-১৯ রোগীদের বেশিরভাগের মধ্যেই উদ্বেগ, অনিদ্রা ও হতাশা দেখা যায়; যা পরবর্তীতে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও সৃষ্টি করে।করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিপুল সংখ্যক রোগীর ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ হওয়ার ঝুঁকিও প্রবল বলে দেখেছেন গবেষকরা।  

“কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিরা মানসিক সমস্যার ভয়াবহ ঝুঁকিতে আছেন বলে অনেকে মনে করেন, আমাদের গবেষণাতেও একই আশঙ্কা উঠে এসেছে,” বলেছেন পল হ্যারিসন।বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা এরই মধ্যে কোভিড-১৯ পরবর্তী মানসিক সমস্যা চিহ্নিত এবং এর কারণ খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রির এ অধ্যাপক।গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়ার তিন মাসের ভেতরই প্রতি ৫ রোগীর একজনের মধ্যে প্রথমবারের মতো উদ্বেগ, হতাশা বা অনিদ্রা দেখা দেয়।এই হার অন্য রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে একই সময়ে এ ধরনের সমস্যায় পড়ার হারের প্রায় দ্বিগুণ।যারা আগে থেকেই মানসিক রোগে ভুগছিলেন তাদের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি বলেও একই গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, কোভিড-১৯ যে মস্তিষ্ক ও মনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে এবং নানান মানসিক অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণাতে সে কথাই বলা হয়েছে। “মহামারীর কারণে যে সমস্ত মানসিক চাপ ও প্রাণঘাতী এ রোগ শরীরে যে প্রভাব ফেলে তার সংমিশ্রনে এমনটা হতে পারে,” বলেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের কনসালটেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট মাইকেল ব্লুমফিল্ড।কিংস কলেজ লন্ডনের সাইকিয়াট্রি বিভাগের রেজিয়াস অধ্যাপক সিমন ওয়েসলি জানান, মানসিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে গবেষণায় যা উঠে এসেছে তার সঙ্গে পূর্ববর্তী সংক্রামক প্রাদুর্ভাবগুলোরও মিল পাওয়া যায়। “কোভিড-১৯ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে, যার কারণে এটি পরবর্তী ব্যাধিগুলোও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এখানেই শেষ নয়। আগে থেকে মানসিক সমস্যায় আক্রান্তরা যে বেশি ঝুঁকিতে গবেষণা সেটিও বলছে,” বলেছেন তিনি।