কোভিড পজিটিভ? ভালো থাকতে ডায়েটে কী কী রাখা উচিত, জেনে নিন...

 

 

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ৫ মে :    অতিমারি সৃষ্টিকারী ভাইরাস কিছুতেই যেতে চাইছে না। নভেল করোনা ভাইরাস আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আরও কতদিন এই সংক্রমণ চলবে সে বিষয়ে বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরাও কিছু আন্দাজ করতে পারছেন না। সব থেকে মুশকিল হল করোনা পজিটিভ হলেই বেশিরভাগ মানুষের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে ,কিন্তু বিপদের মোকাবিলা তো করতেই হবে। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাবার পাশাপাশি সঠিক ডায়েট করতে হবে। কোভিড আক্রান্ত হলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানো দরকার।

কোভিড-সহ যে কোনও ভাইরাল জ্বর হলে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ও জলীয় খাবার খেতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। স্যুপ, টাটকা ফলের রস, ডাবের জল, লেবুর সরবত, দইয়ের ঘোল, পাতলা ডালের সঙ্গে দিনে ৮ – ১০ গ্লাস জলপান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এই নিয়ম স্বাভাবিক মানুষের জন্যে। কিডনির সমস্যা বা অন্য কারণে জলপানে নিয়ন্ত্রণ থাকলে তা মেনে চলা উচিত।

এই ডায়েটটি মেনে চললে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা

ব্রেকফাস্ট
৪টি ইডলি, রাগির দোসা, ওটমিল খিচুড়ি -২ কাপ, ধোকলা- ৫ টুকরা, অঙ্কুরিত সিদ্ধ মুগ ডাল-১ বাটি, এক কাপ মসুর ডাল, পেঁয়াজ টমেটো সস, পুদিনা বা চাটনি জাতীয় সব জিনিস নিতে পারেন।

দুপুরের মাধখানে
১ বাটি ফল (কমলা, পেঁপে, আপেল এবং পেয়ারা), একটি বাটি মসুর ডালের স্যুপ।

দুপুরের খাবার
আপনি চাইলে এক বাটি ব্রাউন রাইস, ৩ কাপ সাম্বার বা ১ কাপ আমের ডাল, তরকারি, শাক বা শাকসবজি খেতে পারেন। এ ছাড়াও দই, সেলারি রুটি, মেথি আলু, মসুর ডাল, দই, গাজর, আলু, পেঁয়াজ, কুমড়ো এবং বাঁধাকপি দিয়ে সবজি খেতে পারেন।সন্ধে বেলার খাবার
সন্ধেবেলায় আপনি একটি বাটি ফল এবং হলুদ চা, একটি সিদ্ধ মিষ্টি আলু, টোস্ট -২ স্লাইস, ড্রাই ফ্রুটস ইত্যাদি খেতে পারেন।

রাতের খাবার
আপনি নিতে পারেন ২ বাটি ব্রাউন রাইস,খিচুড়ি। এ ছাড়া চানা তরকারি এবং এক কাপ সবজি খাওয়া যেতে পারে।

দ্রুত সেরে ওঠার জন্য দরকার প্রোটিন
সকালের জলখাবার, মধ্যাহ্ন ভোজন ও রাতের খাবার তিন বারের পথ্য প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়া উচিত। তার মানে এই নয় যে কষা মাটন দিয়ে লুচি খেতে হবে। বিভিন্ন ডাল, রাজমা,ডিম, চিকেন, মাছ, ছানা প্রোটিনের ভাল উৎস। বাড়িতে অল্প তেলে রান্না করা চিকেন, মাছ, ডিম-সহ অন্য প্রোটিন খেতে হবে। নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে শরীরের অভ্যন্তরে যে ক্ষয় ক্ষতি হয়, তা পূরণ করতে প্রোটিন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। তবে চিংড়ি, কাঁকড়া জাতীয় সামুদ্রিক মাছ খাওয়া যাবে না। এই সময় হজম শক্তি কিছুটা দুর্বল হয়ে যায়।

আমাদের দেহের প্রতিদিন ৭৫-১০০ গ্রাম প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। আমরা যদি আমাদের ডায়েটে ডাল, শিম, দুধ এবং দুধজাত পণ্য, সয়া, বাদাম, ফল এবং সবুজ শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করি তবে এর থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রোটিন পেতে পারি। পুষ্টিকর খাবার খেয়ে মন ভালো রেখে দ্রুত সেরে উঠুন।

ভালো ঘুমের দরকার
রাতের খাবার সাড়ে আটটার মধ্যে খেয়ে নিতে হবে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে হালকা মাশরুম, ভুট্টা বা ভেজিটেবল স্যুপ খেলে, একদিকে ঘুম ভাল হবে অন্যদিকে পুষ্টির ঘাটতি মিটবে। নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয় ফলে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও মিনারেলস।