ইঞ্জিনিয়ারদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর

স্যন্দন ডিজিটা ডেস্ক,  ১৫ সেপ্টেম্বর: বহু ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্বহীন কাজের জন্য জনগণ দুর্ভোগের শিকার হয়। যা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে হয়। পরবর্তী সময় ইঞ্জিনিয়ারদের ফোন করলে সেই সমস্যা সমাধান হয়। তাই ইঞ্জিনিয়ার দিবসে ইঞ্জিনিয়ারদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পি ডব্লিউ ডি এবং ডি ডাব্লিউ এস এগুলি মানুষের জনকল্যাণের জন্য দপ্তর। তাই কাজ করার সময় প্রত্যেক ইঞ্জিনিয়ারকে নিজেই নিজের কাজ মূল্যায়ন করা দরকার। তাহলেই পারদর্শিতা বাড়বে ইঞ্জিনিয়ারদের।

 বুধবার ধলেশ্বর স্থিত প্রাচ্য ভারতী স্কুলে স্টেট ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনে পক্ষ থেকে ৫৪ তম ইঞ্জিনিয়ার দিবসের বক্তব্য রেখে এমনটা বললেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। দীর্ঘ সময় বহু সরকারি সম্পদ পড়ে নষ্ট হলেও বা সংস্কারের অভাব পড়ে থাকলেও এ বিষয়ে সংস্কার করতে বা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ইঞ্জিনিয়ারদের দেখা যায় না। মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে বলতে হয় সমস্যার সমাধানের জন্য। তাই আগামী দিনে ইঞ্জিনিয়ারদের দিনটি বিশেষ ভাবে পালন করার পাশাপাশি নিজের কাজের মূল্যায়ন করা এবং পারিপার্শ্বিক সমস্যাগুলো সমাধান করার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তাহলেই সংগঠনের সার্থকতা আসবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুধু বড় বড় বিষয়ের দিকে বা টেন্ডার হওয়ার দিকে নজর রাখলে চলবে না। ছোট ছোট বিষয় যেগুলি মানুষের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেসব বিষয় গুলি সমাধানের জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যবস্থা নিতে হবে। এবং যে সমস্ত কাজ দপ্তর থেকে নেওয়া হয় সে সমস্ত কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে ইঞ্জিনিয়ারদের। এবং কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ইঞ্জিনিয়ারদের নির্মাণ করা বিষয়টির দিকে নজর রাখতে হবে।

কারণ পূর্বে দেখা গেছে বহু কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ হয় নি। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া বিধায়কদের আবাসনের কাজ ২০২১ সালেও শেষ হয় নি। পুরাতন আগরতলা ব্লকের একটি পাকা ভবন ২০১৬ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালের সম্পূর্ণ হয়েছে। গন্ডা ছড়ায় ২০০৫ সালে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা রাস্তায় এখনো শেষ হয়নি। তাব পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে ৮০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে, কিন্তু এখনো রাস্তা হয়নি। ৪০-৪৫ বছর কাজ না করার মানসিকতা কারণে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে যাতে সময়ের মধ্যে নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। অতীতে রীতিনীতি ছিল কাজ ফেলে রেখে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করা হচ্ছে বলে দেখানোর। এবং নির্বাচন আসলে দেখানো হতো কাজ করা হচ্ছে। তাই সেই রীতিনীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে ইঞ্জিনিয়ারদের। প্রত্যেক ইঞ্জিনিয়ারকে নিজের দায়িত্ব স্থির করতে হবে। পুরনো সিস্টেম তাদের বদলাতে হবে। এবং সময়ের কাজ সময়ে মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে বলে ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ দপ্তরে প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিজেপি সরকার আসার পর রাজ্যে বসানো হচ্ছে আধুনিক ট্রান্সফর্মার। কেন্দ্র থেকে ৪,৬০০ কোটি টাকা পাওয়ার জন্য আনা হয়েছে। যাতে রাজ্যের মানুষকে সঠিক বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া যায়। আর এর সঠিক বাস্তবায়ন করার দিকে নজর দিয়েছে সরকার। সরকারি কর্মচারীদের মনে রাখতে হবে দায়িত্ব বড়, পদ বড় নয়। তাই প্রত্যেক ইঞ্জিনিয়ারকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। কাজে বুঝতে হবে তারা সরকারি কর্মচারী নয়। তারা সরকারের অংশীদার বলে জানান তিনি। এদিন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোভিড যুদ্ধা চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাফাই কর্মীদের সংবর্ধনা জানানো হয়। পরবর্তী সময় কুঞ্জবন স্থিত ওয়াটার রিসোর্স অফিস কমপ্লেক্স এম বিশ্বেশ্বরের মর্মর মূর্তি উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। এবং প্রাচ্য ভারতী স্কুলে বৃক্ষ রোপন করা হয়। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি বিবেকানন্দ রায়, সহ-সম্পাদক সুশান্ত কুমার নাথ সহ অন্যান্যরা।