আফগানিস্তানে ‘দখলদারিত্বের’ অবসান করুন: তালেবানকে এরদোয়ান

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২০ জুলাই : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান বলেছেন, তালেবানের উচিত ‘ভাইয়ের মাটিতে দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো।’সোমবার উত্তর সাইপ্রাসে এক সফরে রওনা হওয়ার আগে ইস্তাম্বুলে সাংবাদিকদের এরদোয়ান একথা বলেন।তালেবান ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বজ্রমুষ্ঠিতে আফগানিস্তান শাসন করেছে। রাজধানী কাবুলে পশ্চিমা-সমর্থিত সরকারের পতন ঘটানো এবং ফের ইসলামিক শাসন কায়েমের জন্য তারা ২০ বছর ধরে লড়েও এসেছে।

দীর্ঘ আফগান যুদ্ধের ইতি টেনে বিদেশি সেনারা এখন সেখান থেকে চলে যেতে থাকায় তালেবান আবার নতুন করে বিভিন্ন অঞ্চল দখলের লড়াইয়ে নেমেছে।গত কয়েক সপ্তাহে দেশজুড়ে আক্রমণ জোরদার করেছে তালেবান যোদ্ধারা। তারা এরই মধ্যে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের কয়েকটি ক্রসিং এবং সীমান্তবর্তী জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, “ভাইয়ের মাটিতে এই দখলদায়িত্ব বন্ধ করে তালেবানের এখনই বিশ্বকে দেখিয়ে দেওয়া উচিত যে, আফগানিস্তানে শান্তি বিরাজ করছে।”“আমাদের দৃষ্টিতে, তালেবান যে পন্থা নিয়েছে তা এক মুসলমানের সঙ্গে আরেক মুসলমানের চরণের পথ হওয়া উচিত না।”তালেবান যোদ্ধারা যে কেবল আফগানিস্তানে একের পর এক অঞ্চল দখল করছে তাই নয়, বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পরও কিছু সেনা রেখে দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তারা ক’দিন আগে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।আফগানিস্তান থেকে মূল বাহিনীর সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার পরও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা এবং কাবুল বিমানবন্দরের পাহারা দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই সেখানে কিছু সেনা রাখার এই পরিকল্পনা।

যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্ক মিলে কাবুল বিমানবন্দরের সুরক্ষার পরিকল্পনা করছে। নেটো সেনারা চলে গেলে তুরস্ক কাবুল বিমানবন্দর পাহারা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।তবে তুরস্ক যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পাবে ততক্ষণ পর্যন্তই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষায় রাজি হয়েছে এবং এইসব সহায়তা পাওয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও চলছে।তালেবান গত সপ্তাহেই এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তুরস্ককে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সময়সীমার মধ্যেই সব বিদেশি সেনা আফগানিস্তান না ছাড়লে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।তবে এরদোয়ান তালেবানের এ হুঁশিয়ারিকে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা নিয়েছেন। হুঁশিয়ারির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এরদোয়ান বলেন, “তালেবানের বিবৃতিতে এমন কথা নেই যে ‘আমরা তুরস্ককে চাই না’।”