স্মার্টফোন আসক্তি আজকের প্রজন্মের ভবিষ্যতের দিকে এক মারাত্মক ঝুঁকি

জন্টু দাস, অতিথি অধ্যাপক, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়

আমরা আজ এমন যুগে এসে পৌঁছেছি যেখানে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি ছাড়া জীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। আজকের দিনে জীবন এমন ভাবে প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের সাথে জড়িয়ে গেছে যে মনে হয় এগুলো ছাড়া জীবন চলবে না এবং এটা সত্যি যে বিজ্ঞান বা প্রযুক্তিকে জীবনে কিছুতেই উপেক্ষা করা যায় না। প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান আজ জীবনের অবিচ্ছেদ অঙ্গ হয়ে উঠেছে। আধুনিক এই যন্ত্র সভ্যতার যুগে মানুষকে অবশ্যই প্রযুক্তি ও যন্ত্রের সাথে সমান-তালে চলতে হবে। আমরা অনেক অনেক যন্ত্রের সঙ্গে সুপরিচিত না হলেও মোবাইল নামক যন্ত্রের সঙ্গে প্রায় সব মানুষেরই যে সুপরিচিতি রয়েছে তা নিয়ে কোন সংশয় নেই।  আজ মোবাইল বিশেষ করে স্মার্ট ফোন প্রত্যেক মানুষকেই আকৃষ্ট করে রেখেছে এবং এটি এতই প্রয়োজনীয়, প্রাসঙ্গিক, এবং আকর্ষণীয় যে এ নিয়ে তর্ক করা চলে না।

আজকের দিনে মানুষ তার জীবনের বেশিরভাগ সময় মোবাইল ফোনেই কাটায়। জীবন যাপনে মোবাইলের অধিক আর কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী সঙ্গী আজ নেই বা মানুষ আছে বলে মনে করে না । মোবাইল সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠার মুখ্য কারণ হচ্ছে এর বহুমুখী ব্যবহারিক বিভিন্ন দিক গুলি যেমন এর দ্বারা আমরা ভয়েস কল করতে পারি, ভিডিও কল করতে পারি, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে পারি, গেম খেলতে পারি, বিভিন্ন জনপ্রিয় সামাজিক নেটওয়ার্ক চালাতে পারি,  যেমন টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ফেইসবুক, স্ন্যাক ভিডিওর মতো বহু ভিডিও করার অ্যাপ যেগুলি কিশোর, প্রাপ্ত বয়স্ক, বৃদ্ধ সবার জন্যই এক দারুণ মনোরঞ্জনের সুযোগ করে দিয়েছে যা এর আগে বিশ্ববাসী দেখেনি। বিভিন্ন ধরনের তথ্য যোগাযোগ, শিক্ষা ক্ষেত্রে, নান্দনিক ক্ষেত্রে এবং বর্তমানে এই মহামারির সময়ে মোবাইল আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই মোবাইলের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে কত জন কাজ করছে বা ইতিবাচক ব্যবহার করছে সেটাই হচ্ছে মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

আমরা সবাই এটা জানি এবং বিশ্বাস করি যে- যেকোনো জিনিসের সঠিক ব্যবহার হলে তা অবশ্যই সুফল দায়ক হয় আর এর অপব্যবহার হলে ঠিক তার উলটো ফল হয় যার কু-প্রভাব ভীষণ মারাত্মক হতে পারে। যে ব্যক্তি তাঁর মোবাইলকে সঠিকভাবে সঠিক কাজে ব্যবহার করে সেই ব্যক্তির মঙ্গলই হয়।  আর যাদেরকে মোবাইল ব্যবহার করে অর্থাৎ ব্যক্তি মোবাইলকে নয়, মোবাইল ব্যক্তিকে ব্যবহার করে তাহলে এর ফল নেতিবাচক এবং এতে শুধু ক্ষতিই হয় না-জীবন হানিও ঘটে থাকে। বিজ্ঞান ততক্ষণ আশীর্বাদ, যতক্ষণ এর সঠিক ব্যবহার হয়; যদি ভালো কাজে সু-ব্যবহার করি তো ভালো আর যদি অপব্যবহার করি তো ভয়ংকর হয়। আর আক্ষেপের বিষয় হচ্ছে এই স্মার্ট ফোন ব্যবহার আজ আর সু-ব্যবহারে নেই, অধিকাংশই অপব্যবহার করছে। যেকোনো কিছুর অপব্যবহার  থেকে  হতে পারে আসক্তি। যেমন-নেশা, জুয়া অথবা কম্পিউটার আসক্তি ইত্যাদি। আজকের দিনের অন্যতম ভয়াবহ যে সমস্যা যাকে নিয়ে সকল অভিভাবক, সমাজবিদ, চিন্তাবিদদের মনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তা হচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের এই  স্মার্টফোন আসক্তি। আজকের ছাত্র ছাত্রীরা অনলাইনে ক্লাসেরও সুযোগ নিচ্ছে। এরা আজ দিশে হারা হয়ে গেছে। একটা দৃষ্টান্ত এখানে তুলে ধরছি

বিশালগড় থেকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে বলে এক  কিশোর  বাসে উঠল। কিন্তু   উঠেই  সে তার মুঠোফোনে এমন মশগুল হয়ে গেল যে বিশ্ববিদ্যালয়ে নামার কথাই সে ভুলে গেল। খানিক বাদে তার হুঁশ ফিরে এলো। ততক্ষণে বাসটি আমতলী পৌঁছে গেছে। এমন আরেকটি ঘটনা দেখলাম, এক ছাত্র  চার তলায় তার ক্লাসে যাবে বলে লিফটে  উঠলো। কিন্তু লিফটে উঠেই সে তার মুঠোফোনে এমন বিভোর  হয়ে গেল যে চারতলার বোতাম চাপতেই সে ভুলে গেছে। খানিক বাদে তার হুঁশ ফিরে এলো কিন্তু ততক্ষণে লিফট ছয়তলায় পৌঁছে গেছে। তড়িঘড়ি করে একবার দরজা, একবার লিফটের বোতামগুলো দেখতে দেখতে হতাশ হয়ে আবার মুঠোফোনে মনোযোগ দিলো।

এখন একে আমরা কি বলব?  আমরা কি তাকে মোবাইল আসক্ত বলব না? অনেকে হয়তো বলবে সে তো দরকারী ইমেইল পাঠানোর জন্যও মুঠো ফোন ব্যবহার করতে পারে! উত্তরে বলা যেতে পারে- হ্যাঁ পারে- তবে তা এমন হবে না যে- এক দরকারী কাজ করতে গিয়ে অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের বিসর্জন হয়ে যাবে, তাহলে তো আর কোনোটাই প্রয়োজনীয় রইল না।

যেকোনো কর্মকাণ্ড যা মানসিক, শারীরিক বা সামাজিক ভাবে হানি-কারক, এবং নিজের ক্ষতি জেনেও সেই ক্রিয়ার প্রতি ব্যবহারকারীর অপ্রতিরোধ্য আকাঙ্ক্ষার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাকেই আসক্তি বলে। কম্পিউটার,  গেমিং সিস্টেম—বিশেষ করে স্মার্টফোনে কাজ করা যায় এমন যেকোনো যন্ত্রের প্রতি তীব্র টানই হল প্রযুক্তি আসক্তি। আর এই প্রযুক্তি আসক্তির সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত আসক্তি হচ্ছে স্মার্টফোন আসক্তি। কিশোরদের মধ্যে স্মার্টফোন আসক্তি বিশেষ দেখা গেলেও সব বয়সের মানুষই এতে আসক্ত হতে পারে এবং হচ্ছেও। অবাক করার মতো মানুষের এই যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব নিউরোসাইকিয়াট্রিক মেডিসিন অনুসারে মার্কিন নাগরিকের মধ্যে প্রতি আট জনে একজন প্রযুক্তিতে আসক্ত।

যদিও আমাদের দেশে সেই রকম  কোনও তথ্য ভিত্তিক পরিসংখ্যান নেই । তবে আমাদের আশপাশে, বাড়ি ঘরে, দোকানে কিংবা রেস্তোরায় তাকালে বোঝা যায়, স্মার্টফোনে  আসক্তি  কি হারে বাড়ছে। কোথাও নৈশ ভোজের নিমন্ত্রণে খেতে গেলে দেখা যায় একই টেবিলে চারজন বসে একহাতে খাচ্ছেন আর অন্য হাতে স্মার্টফোনে ব্যস্ত। আরও দেখা যায় একই পরিবারের চারজন হয়তো গেছেন রেস্তোরায় কিংবা কোন হোটেলে খেতে, খাবার আসার আগ পর্যন্ত এমনকি খাবার খেতে খেতেও, দেখা গেল চারজনের চার জনই নিজ নিজ স্মার্টফোন ব্যস্ত। আরও আশ্চর্যের বিষয় দেখা গেল দুই তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে গেছে,- হাঁটতে হাঁটতে একে অপরের সাথে কথা বলবে,- দেখা যাচ্ছে হাঁটতে হাঁটতেও নিজ নিজ স্মার্টফোনে ব্যস্ত। এমন বহু কিশোর কিশোরীদের দেখা গেছে তাদের অভ্যাস হয়ে গেছে ফেসবুকে বা হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করতে করতে কিংবা কানে হেড ফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ার। আবার এও দেখা যায় স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই নিজ নিজ মোবাইল ফোনে এত ব্যস্ত যে তাদের শিশুটি ছুরি দিয়ে হাত কেটে ফেলেছে আর এরা তা বুঝতেই পারেনি। কেউ হয়তো গেছে রান্না করতে, দেখা গেল নুনের বদলে সোডা, জলের বদলে তেল দিয়ে দিচ্ছে।  এগুলি সবই স্মার্টফোন আসক্তি। স্মার্টফোন আসক্তি অনেক ধরণের প্রেক্ষিতে হতে পারে যেমন ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফোনে কথা বলা কিংবা পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি ইত্যাদি।

 

কি করে বুঝবেন কেউ মোবাইলে আসক্ত কিনা?

একজন অভিভাবক হিসেবে আমাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে হলে তাদেরকে আসক্তি থেকে সরাতেই হবে। তাই আমরা সকল অভিভাবকদের মোবাইল আসক্তি বিষয়ে ওয়াকিবহাল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত তখনই কাউকে স্মার্টফোন আসক্ত বলা যেতে পারে, যখন তাঁর মধ্যে নিম্নে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলি দেখা যায়-

প্রথমত, আসক্ত ব্যক্তির দিনে দিনে স্মার্ট ফোনে সময় কাটানোর হার বাড়বে।

দ্বিতীয়ত, স্মার্ট ফোন থেকে দূরে থাকলে শারীরিক ও মানসিক অস্থিরতা দেখা দেবে এবং সে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়বে।

তৃতীয়ত, ঘুম থেকে উঠে সর্বাগ্রে প্রথমেই তার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি রীতিমত চেক করতে থাকবে ।

চতুর্থত, গোপনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার মাত্রা বেড়ে যাবে। শুধুমাত্র মোবাইল ব্যবহার করার জন্য আলাদা বাহানা খুঁজবে এবং কতটুকু মোবাইল ব্যবহার করছে সে বিষয়ে মিথ্যে বলবে।

পঞ্চমত, মোবাইলকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার (প্রায়োরিটি) দেবে। সে বন্ধু হোক বা বান্ধবী হোক, মা কি বাবা, সবার চাইতে, সব ধরনের কাজের থেকেও স্মার্ট নকে বেশি গুরুত্ব দেবে।

ষষ্ঠত, মাতা-পিতার সাথে মোবাইল ব্যবহার নিয়ে বাক বিতণ্ডা, মনোমালিন্য নিত্য দিনই লেগে থাকবে।

সপ্তমত, পড়তে বসা, ভাত খাওয়া ইত্যাদি সব ধরণের কাজের ক্ষেত্রেই তার স্মার্টফোনটিকে সঙ্গী হিসেবে চাইবে।

 

কীভাবে স্মার্ট ফোন আসক্তি তৈরি হয়?

বলে রাখা ভালো চিকিৎসাশাস্ত্রে এখনো ঠিক স্মার্ট ফোন আসক্তি বলে কিছু সে রকম ভাবে স্থান করতে পারেনি। তবে আর বেশী দিন বাকি নেই, যা দেখছি, যে ভাবে তা বাড়ছে এটাও অন্যান্য মানসিক রোগ ও আসক্তির মতো চিকিৎসা শাস্ত্রে স্থান করে নেবে। যাইহোক যেহেতু এই বিষয়ে সেরকম কোন কিছু নেই তাই ঠিক কি কারণে স্মার্টফোন আসক্তি তৈরি হয় তা পরিষ্কার করে বলা সহজ নয়। তবে সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ বলা যেতে পারে। যেমন —

 

পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অর্থাৎ মোবাইল আসক্তির পেছনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের গৃহ পরিবেশ,   শিক্ষক-শিক্ষিকা, মাতাপিতা, বন্ধু বান্ধবী দায়ী থাকি। এই আসক্তি হঠাৎ করে একদিনে তৈরি হয় না কিন্তু হঠাৎ একদিনে না হলেও এটি খুব দ্রুত হয় কারণ আসক্তি তৈরি হয় অভ্যাসের ফলে কেননা কোন কাজের বা আচরণের বার বার পুনরাবৃত্তি হতে থাকলেই সেটি আমাদের অভ্যস্ত কর্ম হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। দেখা গেল মাতা-পিতা তার সন্তানদেরকে অতি আদরে শৈশব কাল থেকেই মোবাইল দেখিয়ে ঘুম পাড়ানো, ভাত খাওয়ানো ইত্যাদি করে থাকেন এবং সে তাতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠে এবং সে যখন বড়ো হয় তখন তা আসক্তির রূপ নেয়।  এইভাবে সঠিক সময়ে সঠিক গাইডের অভাবে সে আসক্ত হয়ে পড়ে।

 

স্মার্ট ফোন আসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব

স্মার্টফোন আসক্তিতে শরীর ও মনের পরিবর্তন ঘটে যা সত্যিই এক ভয়ানক বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই আসক্তি কিশোরদের সামাজিক, মানসিক, শিক্ষাগত, ব্যক্তিগত, মনো-বৈজ্ঞানিক, আচরণগত এবং পেশাগত জীবনে এক মারাত্মক আঘাত হানতে পারে।  বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়, খবরের কাগজে এবং সংবাদ মিডিয়ায় বা টেলিভিশনে, প্রতিনিয়ত দেখিয়ে যাচ্ছে এবং বলে যাচ্ছে যে  গাড়ি এক্সিডেন্ট, বাইক এক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পথ দুর্ঘটনা কিছুটা এই মোবাইলের জন্যে ঘটে থাকে। তারা ড্রাইভিং করার সময় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার স্বীকার হয়।

সামাজিকতা থেকে দূরে থাকা, কর্ম ক্ষমতা কমে যাওয়া, পারিবারিক সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত হওয়া, সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা, পড়াশুনায় অমনোযোগ, মস্তিষ্কের ক্ষয় —এ ধরনের বহু সমস্যাই স্মার্টফোণ আসক্তি থেকে হয়ে থাকে।

আচরণগত পরিবর্তন যেমন মেজাজ খিট্‌খিটে হয়ে থাকা বা চড়া মেজাজে থাকা, বন্ধু-আত্মীয়দের এড়িয়ে চলা, সামাজিক সম্পর্কে ব্যাঘাত ঘটা, ঠিকমতো না ঘুমানোর ফলে মস্তিষ্কের দুর্বলতা, আগে ভালো লাগত এমন কাজ বিরক্তিকর মনে হওয়া ইত্যাদি।

ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাঘাত ঘটে। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, বিষণ্ণতা—এ ধরনের রোগ দেখা যায়।

শারীরিক পরিবর্তন যেমন অত্যধিক ওজন বেড়ে যাওয়া, শারীরিক দুর্বলতা, ঘন ঘন মাথা ব্যথা, দৃষ্টি শক্তির সমস্যা, শরীরে ব্যথা বেড়ে যাওয়া, পিঠে এবং ঘাড়ের ব্যথা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। এর অন্যতম কারণ  হচ্ছে স্মার্টফোনে আসক্ত যুবারা  পুকুরে গিয়ে সাঁতার কাটা, মাঠে গিয়ে খেলা করা, শারীরিক পরিচর্যা ইত্যাদি করবার সুযোগ বা মানসিকতা কোনোটাই হয়না যাতে করে তারা শারীরিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাছাড়া বন্ধু-বান্ধবের সাথে গল্প করা, দাদু দিদার সাথে গল্প বলা এসব হয় না বরং নিজ নিজ ফোনের নেশায় মত্ত থাকে যার কারণে একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থেকে থেকে তার মধ্যে সামাজিক আইসোলেশন তৈরি হয়, সামাজিক সম্পর্ক ব্যাঘাত ঘটে, মানবিকতার বদলে যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকট হয়। 

স্মার্টফোন আসক্তি থেকে বের হওয়ার উপায়

অত্যধিক স্মার্টফোন ব্যবহার করা, ফোনে গেইম খেলা, চ্যাট করা এসবের বদলে খেলাধুলা বা সঠিক আড্ডার মাধ্যমে নিজের বিনোদন খুঁজে বের করতে হবে।সীমিত পরিমাণে মোবাইল ব্যবহার করার জন্য উৎসাহিত করতে হবে এবং বড়োরা নিজেও মোবাইল ব্যবহার করতে হবে সীমিত ভাবে।ছেলেমেয়েরা কোনটা ভালো কোনটা খারাপ বুঝে না ফলে অধিক সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীরাই মোবাইলের নেতিবাচক ব্যবহার করে। তাই অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্নেহের সহিত এই অভ্যাসের যেন পুনরাবৃত্তি না হয় তা লক্ষ রাখতে হবে।শিক্ষক এবং মাতা-পিতাকে একজন রোল মডেল হতে হবে। মূল্যবোধের ও সামাজিকতার শিক্ষা দিতে হবে। আসক্ত হবার আগেই এই বিষয়ে যত্নশীল হতে হবে কারণ আমরা জানি Prevention is better than cure.  নাহলে বর্তমান প্রজন্মকে ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে উঠবে।