পরীক্ষা না হলে কি জীবন অন্ধকার?

রাজা দেবরায়

পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। একশো শতাংশ পাশ। উনোয়াশি জন প্রথম হয়েছে। এই ফলাফল নিয়ে বিতর্ক থাকবে বা আছে স্বাভাবিকভাবেই। কারণ বর্তমান সময়ে পরীক্ষা নেওয়াটা তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ (যদিও এটা নিয়েও বিতর্ক দেখা গেছে) বলেই চিরাচরিত প্রথায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই মূল্যায়ন যাদের পছন্দ হয়নি এনাদের অধিকাংশেরই মতামত যতটুকু জানা গেছে যে এই মূল্যায়ন ভবিষ্যতের জন্য ভালো হয়নি। এই মতামতের পেছনে যুক্তি কী সেটা পুরোপুরি জানা সম্ভব না হলেও কথাবার্তায় যতটুকু ধারণা পাওয়া গেছে যে এই মূল্যায়নে ভালো শিক্ষার্থীরা বা পরীক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবে, দুর্বলরা লাভবান হবে, প্রকৃত মেধাবী বঞ্চিত হবে এবং সর্বোপরি শিক্ষায় ঘাটতি থেকে যাবে। এর বাইরেও বিভিন্ন মতামত বা যুক্তি হয়তো থাকতেও পারে।

প্রথমত, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গ (এছাড়াও আরো রাজ্য থাকতে পারে, আপাতত জানা নেই) সরকার (শিক্ষাদপ্তর) আগেই জানিয়েছে যে যারা এই মূল্যায়নে সন্তুষ্ট হবেনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এছাড়াও এবার বর্তমান যে মূল্যায়ন হলো সেটা তো আগের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই হলো। আর যারা 'প্রকৃত' মেধাবী তাদের তো পড়াশোনা বন্ধ হয়নি। তারা তো পড়ছে বা পড়তে পারছে এবং ভবিষ্যতেও পড়াশোনা করার সুযোগ থাকছেই। তাহলে চিন্তা কিসের? 'প্রকৃত' মেধাবী হলে উচ্চমাধ্যমিকে বা জয়েন্টে বা অন্যান্য পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করবে। সব সুযোগ যে চলে গেছে বা যাচ্ছে তা তো নয়।

আর ভবিষ্যতে কে ভালো করবে বা কে তুলনামূলক খারাপ করবে সেটা কি সবসময় সঠিক জানা যায়? আমাদের অভিজ্ঞতা কী বলে? আমরা শিক্ষার্থী বা পরীক্ষার্থী থাকাকালীন কি দেখিনি যে কেউ কেউ মাধ্যমিকে কম নম্বর পেয়েছে কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে ভালো নম্বর পেয়েছে? অথবা এর উল্টো চিত্র কি দেখিনি? পড়াশোনা শেষ করার পরেও আমরা কি দেখিনি যে যাকে বা যাদের আমরা বোকা বা হাবাগোবা টাইপের ভাবতাম বা কম নম্বর পেয়েছিলো তারা বা তাদের কেউ কেউ এখন এতটা 'স্মার্ট' বা জীবনে উন্নতি করেছে যে ভাবতেও অবাক লাগে? আবার উল্টোটাও কি দেখিনি? কমবেশি সবার জীবনের অভিজ্ঞতাতেই হয়তো সেটা ধরা পড়েছে বা পড়বে। ফলে মূল্যায়নের সঠিক দিশা বা পথ হয়তো এখনো আমরা খুঁজে বের করতে পারিনি।

আসলে চিরাচরিত এই পরীক্ষার প্রতি আমরা এতটাই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছি যে অন্যভাবে চিন্তাভাবনার করার অবকাশটুকুও আমরা পাই না। বহুল প্রচলিত ব্যবস্থার মধ্যেই ডুবে থাকতে পছন্দ করছি বা করানো হচ্ছে (যেকোনোভাবে, যেকোনো মাধ্যমে)। এবং তাতে সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তো অবশ্যই আছে!!