স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৮ মে : বাইখোড়া থানার এসআই চন্দ্র কেতু ত্রিপুরার চন্দ্রর দশা। বাইখোড়া থানা এলাকায় কান পাতলে তা শুনা যায়। বাকা পথে প্রতিনিয়ত সে নিজের পকেট ভারি করে চলছে। রাস্তায় দাড়িয়ে যান বাহন চেকিং-এর নামে মানুষকে হয়রানি করে পকেট ভারি করা তার বড় কাজ। সন্ধ্যা হতেই তার প্রয়োজন বিলেতি মদ। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু দক্ষিন জেলা পুলিশ সুপার কিংবা শান্তিরবাজার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রহস্য জনক কারনে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।
অবশেষে চন্দ্র কেতুর বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হল গরীব কৃষকদের। কৃষকরা নিজেদের কৃষি জমিতে সবজি ফলিয়ে সেই সবজি বাজারজাত করে অর্থ উপার্জন করে। চন্দ্র কেতু এইবার কৃষকদের উপার্জনে ভাগ বসাতে চাইছে। শনিবার ছিল বাইখোরা বাজার। স্বাভাবিক ভাবে কৃষকরা ভোর বেলা তাদের ফলানো সবজি নিয়ে অটো করে বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। কৃষকদের অভিযোগ অটোতে দুই ব্যাগের জায়গায় তিন ব্যাগ সবজি নেওয়ার কারনে মাঝ রাস্তায় সবজি সহ অটো আটকে রাখেন এসআই চন্দ্র কেতু ত্রিপুরা। দীর্ঘ সময় অটো দাড় করিয়ে রাখার পর তাদের অটো ছাড়া হয়। ফলে কৃষকরা সবজি নিয়ে বাজারে পৌছাতে দেরি হয়ে যায়। ততক্ষণে বাজার থেকে ক্রেতারা চলে গেছে। কৃষকরা তাদের সবজি বিক্রয় করতে পারে নি। তাই কৃষকরা বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধে সামিল হয়েছে।
তাদের দাবি তাদের সবজির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এসআই চন্দ্র কেতু ত্রিপুরাকে। এইদিকে সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বাইখোরা থানার ওসি। তিনি কথা বলেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি অভিযুক্ত চন্দ্র কেতুকে অবরোধস্থলে আসতে হবে। কৃষকদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত বাইখোরা থানার ওসির আশ্বাসে সড়ক অবরোধ মুক্ত করে কৃষকরা। এই বিষয়ে বলতে গিয়ে বাইখোরা থানার ওসি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন সবজি ব্যবসায়ীরা এসআই চন্দ্র কেতু ত্রিপুরার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। কিন্তু অভিযোগ বুঝিয়ে জানাতে পারে নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি। জানা যায় এসআই চন্দ্রকেতু ত্রিপুরাকে বেশ কয়েকমাস পূর্বে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারনে এখনো তিনি বাইখোরা থানায় রয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে একাধিক অভিযোগ উঠার পরও কেন এসআই চন্দ্র কেতু ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এখন দেখার এই দিনের ঘটনার পর এসআই চন্দ্র কেতু ত্রিপুরার বিরুদ্ধে দক্ষিন জেলার পুলিশ সুপার কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

