স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৯ জুন :পূর্বের শত্রুতার জেরে এক পরিবারের চারজনকে মারধর করে এবং এই পরিবারের বৃদ্ধ মহিলাকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে খুন করেন দুর্বৃত্ত শশাঙ্ক দেব এবং সুব্রত দেব বলে অভিযোগ। ঘটনার বিবরণ দিয়ে আক্রান্ত চারজনের মধ্যে স্মিতি সাধু জানান, গত ১ জুন রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ চাম্পাহাওর থানার অন্তর্গত আশারামবাড়ী চামাবস্তির বাসিন্দা গণেশ সাধুকে তাদের বাড়ির সামনে পূর্বের শত্রুতার জেরে শশাঙ্ক দেব, সুব্রত দেব, শানু দেববর্মা, রাজেশ হারি, সমিরন হারি ও অতু দেব বেধড়ক মারধর করেন। গণেশ সাধুকে বাঁচাতে স্ত্রী নিয়তি সাধু, মেয়ে স্মৃতি সাধু এবং বৃদ্ধ মা সত্যবতী সাধু ঘটনাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদেরকে বেধড়ক মারধর করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা সত্যবতি সাধু।
কারণ দুর্বৃত্তরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাতুরি নিয়ে এসেছিল, যথারীতি সত্যবতীর মাথায় প্রচন্ড আঘাত লাগে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই ঘটনাটি সংঘটিত করার পর দুর্বৃত্তরা এলাকায় হুলিয়া জারি করেন গুরুতর আহত ব্যক্তিদের কেউ যেন সাহায্য না করেন এবং কেউ যেন গাড়ি ভাড়া না দেয়। এদিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়িতেই পড়েছিল এলাকার থেকে কেউ গাড়ি দিচ্ছিল না। তাই রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়িতে পড়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশকে ঘটনাটি জানালে পুলিশ সেদিন রাতে ২টা নাগাদ গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত পরিবারের সদস্যদের খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে সঙ্গে সঙ্গে জিবি হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর রবিবার সকাল ছয়টায় সত্যবতী সাধু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এত বড় ঘটনা হলো পুলিশ গোটা ঘটনাটি জেনেও চম্পা হাওর থানার পুলিশ কোন স্বতঃ প্রণোদিত মামলা গ্রহণ করেনি। যদিও আক্রান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে গোটা ঘটনাটি নিয়ে লিখিত আকারে চাম্পা হাওয়ার থানায় মামলা প্রদান করবেন। এলাকা সূত্রের খবর সীমান্তে পাচার বাণিজ্যের সাথে যুক্ত সুব্রত দেব, শশাঙ্ক দেব সহ অন্যান্য দুর্বিতরা। যার কারণে কিছুদিন আগে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল শশাঙ্ক দেব এবং সুব্রত দেবের সঙ্গে। এখন দেখার বিষয় এই গোটা ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

