বাড়িরাজ্যনেশা দব্য বাঁকা পথে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তেলিয়ামুড়া থানার তিন পুলিশ...

নেশা দব্য বাঁকা পথে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তেলিয়ামুড়া থানার তিন পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৪ মে : সর্ষে ভূত! সরকার নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়বে কিভাবে, এই প্রশ্ন উঠলো রাষ্ট্রীয় কালার্স প্রাপ্ত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। সম্প্রতি টাকা কান্ডের দাগ মোছার আগেই আবারো সামনে আসলো ত্রিপুরা পুলিশের কীর্তি কান্ড। উদ্ধার হওয়া নেশার এসকফ সিরাফ পুলিশের হেপাজত থেকে খোলা বাজারে মাদক ব্যবহারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তেলিয়ামুড়া থানার তিন পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে। তারপর তাদের খোয়াই এসপি অফিসে ক্লোজড করে নিয়ে ডিপার্টমেন্টালি ইনকোয়ারির নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ সুপার। তেলিয়ামুড়া থানার এই তিন পুলিশ কর্মী হলেন থানার সেকেন্ড অফিসার তথা ইন্সপেক্টর অজিত দেববর্মা, সাব ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র রিয়াং এবং কনস্টেবল সুকান্ত দেব।

এ ব্যাপারে থানা সূত্রে এক অভিযোগে জানা যায় গত ২০ শে মে বুধবার গভীর রাতে মাদক বিরোধী অভিযানের অঙ্গ হিসেবে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ এসআই সম্পা দাসের নেতৃত্বে মহারাণীপুর এলাকায় মোবাইল ডিউটি করছিল। গভীর রাতে নিয়মিত টহল ও তল্লাশি চলাকালীন পুলিশের নজরে আসে TR 01 BV 0637 নম্বরের একটি সন্দেহজনক ইকো গাড়ি, যা রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়িটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটিকে  আটক করে এবং তল্লাশি অভিযান নাকি শুরু করে। তল্লাশি চালানোর সময় গাড়ির ভিতর থেকে বিপুল পরিমাণ “এস কফ” সিরাপ উদ্ধার হয়। তখন পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছিল উদ্ধার হওয়া বোতলের সংখ্যা নাকি ৬০০। কিন্তু একাধিক  নির্ভরযোগ্যসূত্র মারফতে জানা গেছে ওইদিন ওই গাড়িতে ছিল ৬০০০ বোতল এসকফ সিরাফ। ধরা পড়ে যাওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে পাচারকারীদের বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ১০০০ বোতল গাড়িতে রেখে দিয়ে, বাকি ৫০০০ বোতল সিরাপ প্রেস স্টিকার লাগানো একটি ওয়াগনার গাড়িতে করে পাচারকারীরা নিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে খবর।পরে পুলিশ ওই উদ্ধার হওয়া ১০০০ বোতল থেকে মাত্র ৬০০ বোতল দেখিয়ে বাকি ৪০০ বোতল যার ব্যাচ নাম্বার হলো QEKSL 042 এবং QEKSL 046 খোলা বাজারে নেশা ব্যবহারকারীদের প্রতিটি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করে দেওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

 আর এই খবরও প্রমাণ সহ পাওয়া যায় কয়েকজন নেশা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে। বর্তমানে “এস কফ” সহ বিভিন্ন কফ সিরাপ মাদক হিসেবে অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে রাজ্যের যুবসমাজ এবং পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে। তাই সরকার থেকে এই জাতীয় কফ সিরাফকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এদিকে তেলিয়ামুড়া থানার এই অবৈধ ঘটনার খবর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পৌঁছতেই তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে এর কিছুটা সত্যতা পেয়ে তড়িঘড়ি এই তিন পুলিশ কর্মীকে শনিবার এসপি অফিসে ক্লোজড করে নিয়ে যায়। এবং ডিপার্টমেন্টালি ইনকুইয়ারির নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। এই ঘটনায় তেলিয়ামুড়া থানার ভূমিকা নিয়ে আবারো জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর আগেও গত কয়েক মাস আগে তেলিয়ামুড়া দুষ্কি এলাকা থেকে বিপুল পরিমান ফেনসিডিল উদ্ধার কান্ডেও নাকি এই রকমই ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল বলে থানারই একটি সূত্রে জানা গেছে। তাহলে কি পুলিশই নেশা পাচারকারি চক্রের সঙ্গে যুক্ত ? সেই প্রশ্নই বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ জনমনে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য